যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের আটলান্টায় পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় জনতা।
পুলিশের হাতে নিরস্ত্র কৃষ্ণাঙ্গ যুবক নিহত হওয়ার ঘটনায় বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র। বিক্ষোভের সূত্রপাত জর্জ ফ্লয়েড নামে ওই যুবকের হোমটাউন মিনেসোটা রাজ্যের মিনেপোলিস শহরে। মিনেপোলিস শহরে চার দিন ধরে একটানা চলছে প্রতিবাদ। শহরের রাস্তায় রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা। অন্তত একটি পুলিশ স্টেশনে আগুন ধরিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ জনতা। প্রতিবাদের সেই ঢেউ ছড়িয়ে পড়েছে দেশজুড়ে। ক্রমেই তা জোরদার হচ্ছে। শিকাগো, ওহাইও, ইলিনইস, ক্যালিফোনিয়া, টেনেসি, কেনটাকি, কলোরাডো প্রভৃতি রাজ্যের শহরে শহরে চলছে প্রতিবাদে বিক্ষোভ। দাবি জানাচ্ছে পুলিশি নির্যাতন-সহিংসতার অবসান ও শত শত কৃষ্ণাঙ্গ হত্যার ন্যায়বিচারের। এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন মিনেসোটার পুলিশ প্রধান। এদিকে একের পর এক কৃষ্ণাঙ্গ হত্যা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে মার্কিন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। খবর সিএনএন, এবিসি নিউজ, ডেইলিমেইল।
গত সোমাবার যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটায় গলার ওপর পা দিয়ে কৃষ্ণাঙ্গ যুবক জর্জ ফ্লয়েডকে হত্যা করে দেশটির এক শ্বেতাঙ্গ পুলিশ কর্মকর্তা। জালিয়াতির অভিযোগে ধাওয়া করে আটক করার পর রাস্তার ওপরই হাঁটু দিয়ে চেপে ধরেন তিনি। ওই হত্যাকাণ্ডের একটি ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তাতে দেখা যাচ্ছে, জর্জ ফ্লয়েডের শরীর গাড়ির নিচে রেখে গলা হাঁটু দিয়ে চেপে ধরেছে এক পুলিশ। মিনেসোটার পুলিশ প্রধান জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িত চার পুলিশ অফিসারকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে তাদের নাম প্রকাশ করা হয়নি। তবে ফ্লয়ের পরিবার, তার সম্প্রদায়ের নেতারা ও এলাকার অধিবাসীরা অনতিবিলম্বে জড়িতদের গ্রেফতার করে আইন ও বিচারের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছে। ফ্লয়েডের ভাই ফিলোনেস বৃহস্পতিবার সিএনএনকে বলেন, ‘দোষীদের এখনই গ্রেফতার করতে হবে। তাদের অবশ্যই বিচারের আওতায় এনে মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে।’ এ সময় পুলিশ অফিসারকে ফ্লয়েড বলছিলেন, ‘আমি আর দম নিতে পারছি না।’ তাতেও মন গলেনি তার। শরীর নিস্তেজ হওয়ার আগ পর্যন্ত তাকে ছেড়ে দেয়নি। এ ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। নির্মম এই হত্যার ঘটনা দেশটিতে ফের বর্ণবাদ ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে পুলিশের নৃশংসতাকে আবারও সামনে এনেছে। পথচারীদের মোবাইল ফোনে রেকর্ড করা সেই ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পরই প্রতিবাদে বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে মিনেসোটা রাজ্যের বৃহত্তম শহর মিনেপোলিস। বৃহস্পতিবার রাতে বিক্ষোভকারীরা মিনেপোলিসের পুলিশ স্টেশন দখল করে নিয়ে সেখানে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। অগ্নিসংযোগের একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। একই দিন বিক্ষোভকারীরা একটি গাড়ি এবং অন্তত তিনটি ভবনেও অগ্নিসংযোগ করেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো।










