মোহাম্মদ মাকসুদুল হাসান ভূঁইয়া রাহুলঃ
বিশ্বজুড়ে করোনা মহামারীর ভয়াবহ থাবা যেনো থামছেই না! সম্প্রতি বাংলাদেশেও করোনার প্রকোপ বেড়েছে অনেক। করোনা মোকাবেলায় সরকারকে লকডাউনও ঘোষণা করতে হয়েছে। যদিও পবিত্র ঈদ-উল-আযহার কারণে লকডাউন শিথিল থাকবে আজকে পর্যন্ত। আগামীকাল থেকে সারাদেশে আবারো দু’সপ্তাহের কঠোর লকডাউন।
দেশ ও জনগণের বৃহৎ স্বার্থে ও মহামারী ঠেকাতে ঘোষিত লকডাউনে অনেকে পরিবারই আর্থিকভাবে বিপদগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে দিন আনে, দিন খায়- এমন পরিবার সবচেয়ে বেশি অসহায়ত্বে পড়েছে করোনা ও লকডাউনে। একদিকে জীবন, অন্যদিকে জীবিকা- এ দুইয়ের দোলাচালে তাদের জীবন এখন মন্থর! তবে সরকারের পক্ষ থেকে অসহায়দের ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। তাছাড়া সরকারী-বেসরকারী বিভিন্ন সংস্থা, নানান সামাজিক সংগঠন, এমনকি ব্যক্তিপর্যায়েও অনেকে বিপদগ্রস্তদের পাশে দাঁড়িয়েছেন।
অসহায় পরিবারের কথা চিন্তা করে, তাদের জন্য কিছু করার প্রত্যয় নিয়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়েছে কিশোরগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলার শিক্ষার্থীদের নিয়ে গড়ে উঠা ‘স্বপ্নচূড়া’ ফাউন্ডেশন। গত ১৮ জুলাই সংগঠনটির পক্ষ থেকে জেলাটির বাজিতপুর থানাধীন বিভিন্ন এলাকায় ৬০ টি অসহায় পরিবারকে ঈদ উপহার হিসেবে ত্রাণ সামগ্রী দেয়া হয়েছে। যার মধ্যে ছিল চাল, ডাল, তেল, পেঁয়াজ, আলু, আদা, রসুন, লবণ ইত্যাদি।
শিক্ষার্থী সংগঠনটির এই মহৎ উদ্যোগ বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছে। সংগঠনটির সঙ্গে জড়িত সবার ইচ্ছে, ভবিষ্যতেও তাঁরা নিজেদের সাধ্যমতো দরিদ্র ও অসহায়দের পাশে থাকবেন এবং বেকার ও পিছিয়ে পড়াদের কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নেবেন। এছাড়াও তাঁরা রোগীদের প্রয়োজনে নিয়মিত রক্তদানও করে থাকেন।
‘স্বপ্নচূড়া’ ফাউন্ডেশনের সদস্যগণ সবাই উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন। সামনে তাঁদের উচ্চশিক্ষার হাতছানি। পড়াশোনার পাশাপাশি নিজেদের ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম চালিয়ে যাবেন তাঁরা। তবে তাঁদের নিজেদের তেমন কোনো আর্থিক আয়ের সংস্থান নেই। তাই তাঁরা প্রতিমাসে নিজেদের হাতখরচের টাকা থেকে ফাউন্ডেশনের ফান্ডে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ প্রদান করে থাকেন। জমাকৃত এই অর্থ দিয়ে তাঁরা অসহায়দের পাশে দাঁড়ানো সহ নানান ইতিবাচক কাজের ব্যয় বহন করেন। তাঁদের আশা, যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা পেলে তাঁদের ফাউন্ডেশনের কাজ আরো বেগবান হবে।
ফাউন্ডেশনটির উপদেষ্টা হিসেবে আছেন মো. ইফরান জামান মিতুল, গোলাম মোহাম্মদ আরমান এবং ইবনে সিনা নাবিল। সভাপতির দায়িত্বে আছেন মোহাম্মদ আজিম মিয়া, সহ-সভাপতি ফারহান আহমেদ সাফাত ও মাহমুদ আল হাসান রাফি, সাধারণ সম্পাদক আবিদ হাসান আপন, সহ-সাধারণ সম্পাদক হৃদয়, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহাবুবুর রহমান দিদার, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক কুতুবউদ্দিন আরিফ, অর্থ সম্পাদক মো. ওয়াসিম মিয়া, দপ্তর সম্পাদক মো. সাকিব মিয়া, যুগ্ম-সম্পাদক মনকির হাসান পিয়াল, প্রচার সম্পাদক মাহবুব মুগ্ধ ও সহ-প্রচার সম্পাদক মো. লাদেন মিয়া। এছাড়াও আরো পঞ্চাশের অধিক সদস্য ফাউন্ডেশনটির সঙ্গে কাজ করছেন।
ফাউন্ডেশনের পক্ষে যুগ্ম-সম্পাদক মনকির হাসান পিয়াল বলেন, মহান সৃষ্টিকর্তার অশেষ রহমতে আমরা অসহায় কিছু পরিবারের মাঝে ঈদ উপহার দিয়ে তাঁদের মুখে কিছুটা হলেও হাসি ফোটাতে পেরেছি। এটা আমাদের জন্য এক অনাবিল আনন্দ।
আগামীতে আরো বৃহৎ পরিসরে মানবিক কাজ করার প্রত্যয় নিয়ে তিনি বলেন, আমরা সামনের দিনগুলোতে অগণিত মহৎ কর্ম বাস্তবায়ন করতে চাই। এর জন্য আমরা আমাদের সাধ্যমতো চেষ্টা চালিয়ে যাবো। তবে যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা ও সহযোগিতা পেলে ফাউন্ডেশনের ইতিবাচক উদ্দেশ্যগুলো যথার্থ সফলতা লাভ করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন সংগঠনটির এই যুগ্ম-সম্পাদক।
মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতাকে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় যে বৃহৎ পরিসরে রূপ দেয়া যায়, তাই করে দেখালেন এই ‘স্বপ্নচূড়া’ ফাউন্ডেশনের মহৎপ্রাণ শিক্ষার্থীরা। অসহায়দের দুয়ারে সহায়তা পৌঁছে দিতে ও সদাসর্বদা ভালো কর্মে মনোনিবেশ করতে বদ্ধ পরিকর তাঁরা। ‘মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য’- প্রয়াত ভূপেন হাজারিকার বিখ্যাত এই গানের লাইনটি নিজেদের ইতিবাচক কর্মের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন এই তরুণ তুর্কিরা।














