যুক্তরাষ্ট্রের নতুন বাণিজ্যিক শুল্কব্যবস্থায় বাংলাদেশকে সর্বনিম্ন ১০ শতাংশ শুল্কস্তরে রাখা হয়েছে। চীন, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডসহ কয়েকটি প্রধান প্রতিযোগী দেশের জন্য ১২ দশমিক ৫ শতাংশ হার নির্ধারণ করায় মার্কিন বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও অন্যান্য রপ্তানি পণ্য তুলনামূলক সুবিধা পেতে পারে।
মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর—ইউএসটিআরের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশসহ ১৭টি অর্থনীতির পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ সেকশন ৩০১ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এই তালিকায় ভারত, পাকিস্তান, যুক্তরাজ্য, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়াও রয়েছে। অন্যান্য অনেক অর্থনীতির জন্য শুল্কহার নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ।
নতুন শুল্কহার শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬ যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময় রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে কার্যকর হয়েছে। ইউএসটিআর জানিয়েছে, জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য আমদানি ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আইন ও কার্যকর ব্যবস্থা পর্যাপ্ত নয়—এমন তদন্তের ভিত্তিতে ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের সেকশন ৩০১-এর আওতায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তবে ১০ শতাংশ হারকে পুরোপুরি ‘শুল্কছাড়’ বলা যাবে না। এটি বাংলাদেশের পণ্যের ওপর আরোপিত নতুন সেকশন ৩০১ শুল্ক, যা পণ্যভেদে বিদ্যমান মোস্ট ফেভার্ড নেশন—এমএফএন শুল্কের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। বাংলাদেশের সুবিধাটি মূলত প্রতিযোগী কয়েকটি দেশের তুলনায় কম অতিরিক্ত শুল্কহার পাওয়ার কারণে।
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের জন্য আরও একটি বিশেষ সুযোগ রাখা হয়েছে। ইউএসটিআর বাংলাদেশ, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার জন্য প্রাথমিকভাবে তিন বছর মেয়াদি ট্যারিফ-রেট কোটা—টিআরকিউ চালুর পরিকল্পনা করেছে। এর আওতায় মার্কিন তুলা ও টেক্সটাইল উপকরণ ব্যবহার করে তৈরি নির্দিষ্ট পরিমাণ পোশাক সেকশন ৩০১-এর অতিরিক্ত শুল্ক ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবে।
তবে টিআরকিউ ব্যবস্থা এখনো কার্যকর হয়নি। এটি বাস্তবায়নের বিস্তারিত পদ্ধতি, পণ্যের তালিকা, কোটার পরিমাণ এবং কার্যকর হওয়ার তারিখ পরবর্তী সময়ে ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশ করবে ইউএসটিআর। ব্যবস্থা চালুর আগ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশি টেক্সটাইল ও পোশাকপণ্যের ওপর ১০ শতাংশ সেকশন ৩০১ শুল্ক প্রযোজ্য থাকবে।
সরকার আশা করছে, তুলনামূলক কম শুল্কহার এবং ভবিষ্যৎ টিআরকিউ সুবিধা কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রতিযোগিতা শক্তিশালী হবে। বিশেষ করে মার্কিন তুলা ও কাঁচামাল ব্যবহারকারী পোশাক রপ্তানিকারকেরা বাড়তি সুবিধা পেতে পারেন। তবে ব্যবসায়ীদের মতে, প্রকৃত সুবিধা নির্ভর করবে মোট কার্যকর শুল্ক, কোটার পরিমাণ, কাঁচামালের ব্যয় এবং বাস্তবায়নবিধির ওপর।
ছবি: সংগৃহীত





