জোরপূর্বক শ্রম ইস্যুতে নতুন মার্কিন শুল্ক, বাংলাদেশি পণ্যে মোট কার্যকর হার অন্তত ২৫ শতাংশ

জোরপূর্বক শ্রম প্রতিরোধে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর নতুন করে ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক কার্যকর করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের সেকশন ৩০১-এর আওতায় আরোপিত এ শুল্ক যুক্ত হওয়ার পর মার্কিন বাজারে বাংলাদেশি রপ্তানি পণ্যের মোট কার্যকর শুল্কহার অন্তত ২৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

বাংলাদেশি পণ্যের ওপর আগে গড়ে প্রায় ১৫ থেকে ১৬ শতাংশ নিয়মিত শুল্ক প্রযোজ্য ছিল। নতুন ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক যোগ হওয়ায় মোট কার্যকর হার প্রায় ২৫ থেকে ২৬ শতাংশ হচ্ছে। তবে রপ্তানিকারকেরা বলছেন, তাৎক্ষণিকভাবে বাংলাদেশের শুল্ক পরিস্থিতিতে বড় কোনো পরিবর্তন হয়নি। কারণ সেকশন ১২২-এর আওতায় আগে কার্যকর থাকা ১০ শতাংশ অস্থায়ী শুল্কের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর একই হারে সেকশন ৩০১-এর শুল্ক কার্যকর করা হয়েছে।

অর্থাৎ অতিরিক্ত শুল্কের পরিমাণ আপাতত ১০ শতাংশই থাকছে; পরিবর্তন হয়েছে মূলত এর আইনি ভিত্তি।

সেকশন ১২২-এর পরিবর্তে সেকশন ৩০১

দ্বিতীয় মেয়াদে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে—এমন দেশগুলোর পণ্যে উচ্চ হারে শুল্ক আরোপের উদ্যোগ নেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির আওতায় ২০২৫ সালের ২ এপ্রিল বিশ্বের ৫৭টি দেশের ওপর বিভিন্ন হারে পাল্টা বা রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ ঘোষণা করা হয়।

প্রথমে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছিল। পরে তা পর্যায়ক্রমে ৩৫ ও ২০ শতাংশে নামানো হয়। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ৯ ফেব্রুয়ারি স্বাক্ষরিত Agreement on Reciprocal Trade—ART-এর পর শুল্কহার ১৯ শতাংশ নির্ধারিত হয়েছিল। তবে ব্যবসায়ীদের ভাষ্য অনুযায়ী, পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ওই শুল্কব্যবস্থা বাতিল করেন।

এর কয়েক দিনের মধ্যে ট্রেড অ্যাক্টের সেকশন ১২২-এর আওতায় ১০ শতাংশ অস্থায়ী শুল্ক আরোপ করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। মার্কিন আইন অনুযায়ী, এ ধরনের শুল্ক সর্বোচ্চ ১৫০ দিন কার্যকর রাখা যায়। সেই মেয়াদ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এখন সেকশন ৩০১-এর আওতায় নতুন ১০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হলো।

জোরপূর্বক শ্রম নিয়ে ইউএসটিআরের তদন্ত

বাংলাদেশসহ ৬০টি দেশ জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি প্রতিরোধে যথেষ্ট কার্যকর ব্যবস্থা নিয়েছে কি না, তা যাচাই করতে গত ১২ মার্চ তদন্ত শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয়—ইউএসটিআর।

জনমত, প্রকাশ্য শুনানি, সংশ্লিষ্ট সরকারগুলোর বক্তব্য এবং উপদেষ্টা কমিটির সুপারিশ পর্যালোচনা করে ২ জুন তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, সংশ্লিষ্ট দেশগুলো জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি নিষিদ্ধ ও প্রতিরোধে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে।

এর ভিত্তিতে সেকশন ৩০১-এর আওতায় নতুন শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নেয় ইউএসটিআর। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত নোটিস অনুযায়ী, ওয়াশিংটন সময় ২৪ জুলাই রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে নতুন শুল্ক কার্যকর হয়েছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে ইতোমধ্যে রওনা হওয়া পণ্য ২৮ জুলাই দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিট পর্যন্ত নতুন শুল্ক থেকে অব্যাহতি পাবে।

প্রায় সব রপ্তানি পণ্যে শুল্ক প্রযোজ্য

নতুন শুল্ক যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হওয়া বাংলাদেশের প্রায় ৯৯ দশমিক ৪ শতাংশ পণ্যের ওপর প্রযোজ্য হবে। তবে কয়েকটি পণ্য এ অতিরিক্ত শুল্কের বাইরে রাখা হয়েছে।

জ্বালানি তেল ও গ্যাস, সার, কয়েক ধরনের খাদ্যপণ্য এবং সেকশন ২৩২-এর আওতায় আগে থেকেই শুল্ক আরোপিত গাড়ি, ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও তামাসহ কিছু পণ্যে নতুন সেকশন ৩০১ শুল্ক প্রযোজ্য হবে না। যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা বাণিজ্য চুক্তির শর্ত পূরণকারী পণ্যও এর আওতার বাইরে থাকবে।

প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান অক্ষুণ্ন থাকার দাবি সরকারের

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দাবি, নতুন শুল্ক কার্যকর হলেও বাংলাদেশের বাস্তব শুল্ক পরিস্থিতিতে কোনো পরিবর্তন আসছে না। কারণ সেকশন ১২২-এর অধীন ১০ শতাংশ অস্থায়ী শুল্কের পরিবর্তে এখন সেকশন ৩০১-এর অধীন একই হারের শুল্ক কার্যকর হয়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সেকশন ১২২-এর শুল্কটি ছিল ব্যালান্স অব পেমেন্টসের তারতম্যের কারণে নেওয়া সাময়িক ব্যবস্থা। ওই আইনের অধীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট সর্বোচ্চ ১৫০ দিনের জন্য শুল্ক আরোপ করতে পারেন।

তিনি বলেন, “ওই মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আগের শুল্ক আর কার্যকর থাকবে না। তার পরিবর্তে নতুন ১০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হয়েছে। বাস্তবে শুল্কের পরিমাণ একই থাকছে; শুধু আইনি কাঠামো পরিবর্তিত হয়েছে। ফলে বাংলাদেশের বর্তমান শুল্ক পরিস্থিতিতে কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না।”

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ৮৬টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ সেই ১৭টি দেশের একটি, যাদের পণ্যের ওপর সর্বনিম্ন ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে।

চীন, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডের মতো বাংলাদেশের প্রধান প্রতিযোগী দেশের ওপর ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করায় মার্কিন বাজারে বাংলাদেশের তুলনামূলক অবস্থান কিছুটা শক্তিশালী হতে পারে বলে মনে করছে সরকার।

কোন দেশে কত শুল্ক

ফেডারেল রেজিস্টারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশ, ভারত, যুক্তরাজ্য, কম্বোডিয়া, কানাডা, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, মেক্সিকো, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কাসহ ১৭টি দেশের পণ্যে ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।

অন্যদিকে চীন, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডসহ অধিকাংশ বাণিজ্য অংশীদারের জন্য শুল্কহার নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান ও সুইজারল্যান্ডের ক্ষেত্রে বিদ্যমান মোস্ট ফেভার্ড নেশন—এমএফএন শুল্কের সঙ্গে সমন্বয় করে মোট শুল্কহার ১০ অথবা ১২ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারিত হয়েছে।

রপ্তানিকারকদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি—বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, নতুন ঘোষণার পর বাংলাদেশের জন্য কার্যকর অতিরিক্ত শুল্কে কোনো পরিবর্তন হয়নি।

তিনি বলেন, “এতদিন সেকশন ১২২-এর আওতায় ১০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর ছিল। সেই ব্যবস্থার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সেকশন ৩০১-এর আওতায় নতুন ১০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হয়েছে। অর্থাৎ আগের ১০ শতাংশের জায়গায় নতুন ১০ শতাংশ এসেছে।”

প্রতিযোগী দেশগুলোর বিষয়ে তিনি বলেন, ভিয়েতনামের শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে বেড়ে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ হয়েছে। ফলে ভিয়েতনামের তুলনায় বাংলাদেশ কিছুটা সুবিধা পেতে পারে। তবে ভারত ও কম্বোডিয়ার মতো দেশের ওপরও বাংলাদেশের সমান ১০ শতাংশ শুল্ক থাকায় তাদের তুলনায় বাড়তি সুবিধা তৈরি হয়নি।

বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি ও প্লামি ফ্যাশনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলুল হক বলেন, প্রতিযোগিতার দিক থেকে বাংলাদেশের বড় ক্ষতি না হলেও বিশেষ বাণিজ্য চুক্তির পরও অতিরিক্ত সুবিধা না পাওয়া হতাশাজনক।

তার ভাষায়, “প্রায় সব দেশের ক্ষেত্রেই শুল্ক বেড়েছে। তাই প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি। তবে এআরটি স্বাক্ষরের পরও বাংলাদেশ যদি আলাদা কোনো সুবিধা না পায়, সেটিই হতাশার বিষয়।”

হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে আজাদ বলেন, নতুন শুল্কের প্রকৃত প্রভাব বুঝতে আরও সময় প্রয়োজন। মার্কিন ক্রেতাদের সঙ্গে আলোচনা এবং অর্ডারের দামের ওপর এর প্রভাব পর্যালোচনা করার পরই স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।

ইউএস-বাংলাদেশ চেম্বারের প্রতিক্রিয়া

ইউএস-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট মো. লিটন আহমেদ বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কব্যবস্থায় বাংলাদেশের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক ১০ শতাংশে সীমিত থাকায় চীন, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডের তুলনায় কিছুটা প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা তৈরি হতে পারে। তবে নিয়মিত শুল্কসহ বাংলাদেশি পণ্যের মোট কার্যকর শুল্ক প্রায় ২৫ শতাংশ হওয়ায় রপ্তানিকারকদের ব্যয় ও মার্কিন বাজারে পণ্যের মূল্য বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক শ্রমমান, সরবরাহ শৃঙ্খলের স্বচ্ছতা এবং কাঁচামালের উৎস যাচাইয়ের ক্ষেত্রে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নিলে যুক্তরাষ্ট্রের আস্থা বাড়বে। একই সঙ্গে দুই দেশের সরকারের মধ্যে নিয়মিত বাণিজ্য সংলাপ জোরদার করে ট্যারিফ-রেট কোটা দ্রুত কার্যকর এবং বাংলাদেশি পণ্যের জন্য দীর্ঘমেয়াদি অগ্রাধিকারমূলক সুবিধা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।”

মো. লিটন আহমেদ বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি বাজার এবং দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। শুল্কসংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার, ব্যবসায়ী সংগঠন ও রপ্তানিকারকদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। ইউএস-বাংলাদেশ চেম্বার দুই দেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে সংযোগ, বিনিয়োগ এবং বাণিজ্য সহযোগিতা বাড়াতে কাজ অব্যাহত রাখবে।”

‘প্রতিযোগিতা নয়, প্রশ্ন ন্যায্যতার’

কয়েকজন রপ্তানিকারক বলছেন, বাংলাদেশকে অন্য দেশের সমান শুল্কস্তরে রাখার সিদ্ধান্তে ন্যায্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিশেষ বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর, বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার উদ্যোগ এবং এলএনজি সহযোগিতাসহ দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার হওয়ার পর বাংলাদেশ কিছুটা অগ্রাধিকার আশা করেছিল।

জোরপূর্বক শ্রমের সংজ্ঞা এবং কোন ভিত্তিতে একটি সম্পূর্ণ দেশ বা শিল্প খাতকে চিহ্নিত করা হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ব্যবসায়ীরা। কোনো পণ্যের কাঁচামাল সরবরাহ ব্যবস্থার একটি অংশে জোরপূর্বক শ্রমের সংশ্লিষ্টতা থাকলে তার দায় পুরো দেশের রপ্তানি খাতের ওপর চাপানো কতটা যৌক্তিক—এ বিষয়ে আরও স্পষ্টতা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।

ট্যারিফ-রেট কোটায় নতুন সম্ভাবনা

ইউএসটিআর বাংলাদেশ, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার জন্য তিন বছর মেয়াদি একটি Tariff-Rate Quota—TRQ চালুর বিষয় বিবেচনা করছে।

প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের তুলা ও টেক্সটাইল উপকরণ ব্যবহার করে উৎপাদিত নির্দিষ্ট পরিমাণ পোশাকপণ্য সেকশন ৩০১-এর অতিরিক্ত শুল্ক ছাড়াই মার্কিন বাজারে প্রবেশের সুযোগ পেতে পারে।

সরকার মনে করছে, টিআরকিউ ব্যবস্থা কার্যকর হলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের জন্য নতুন প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা সৃষ্টি হবে। তবে কোটার পরিমাণ, যোগ্য পণ্যের তালিকা এবং বাস্তবায়নপদ্ধতি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

দীর্ঘমেয়াদে চাহিদা কমার আশঙ্কা

পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী ড. এম মাসরুর রিয়াজ বলেন, জোরপূর্বক শ্রমের অভিযোগে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের ওপর ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত অপ্রত্যাশিত।

তার মতে, ইউএসটিআরের প্রাথমিক মূল্যায়নে বাংলাদেশের প্রয়োজনীয় আইনি কাঠামো থাকার কথা স্বীকার করা হলেও বাস্তবায়নে দুর্বলতার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছিল। এ ধরনের দুর্বলতা দূর করা সম্ভব হলেও বিষয়টি যথেষ্ট কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা হয়নি।

তিনি সতর্ক করে বলেন, উচ্চ শুল্ক দীর্ঘমেয়াদে মার্কিন বাজারে পণ্যের মূল্য বাড়াবে। এর ফলে ভোক্তার ব্যয় বৃদ্ধি এবং চাহিদা কমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের অন্যতম বড় রপ্তানি বাজার

যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ রপ্তানি গন্তব্য। ইউএস সেনসাস ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত পাঁচ মাসে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ৩৮৬ কোটি ৭৯ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশ আমদানি করেছে ৭৭ কোটি ৯০ লাখ ডলারের পণ্য।

বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, তাৎক্ষণিকভাবে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে বড় ধরনের পরিবর্তন না এলেও দীর্ঘমেয়াদি পরিস্থিতি নির্ভর করবে শ্রমমান বাস্তবায়ন, সরবরাহ শৃঙ্খলের স্বচ্ছতা, কাঁচামালের উৎস যাচাই এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কার্যকর বাণিজ্য আলোচনার ওপর।

একই সঙ্গে প্রস্তাবিত ট্যারিফ-রেট কোটা বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। তবে মোট শুল্কহার দীর্ঘদিন প্রায় ২৫ শতাংশের ওপরে থাকলে মার্কিন বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ও পণ্যের চাহিদার ওপর চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles