যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নিলেই নাগরিক—সুযোগ সীমিত করতে ট্রাম্পের নতুন উদ্যোগ

যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী প্রায় সব শিশুর স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্ব পাওয়ার সাংবিধানিক অধিকার বহাল থাকলেও এই সুবিধার আওতা সীমিত করতে নতুন করে পদক্ষেপ নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট তিনি জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব ও তথাকথিত ‘বার্থ ট্যুরিজম’ লক্ষ্য করে দুটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন।

নতুন পদক্ষেপটি ট্রাম্প প্রশাসনের আগের বিস্তৃত প্রচেষ্টার তুলনায় সীমিত। যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট গত ৩০ জুন ট্রাম্পের পূর্ববর্তী উদ্যোগ প্রত্যাখ্যান করে চতুর্দশ সংশোধনীর অধীনে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্ম নেওয়া অধিকাংশ শিশুর নাগরিকত্বের অধিকার বহাল রাখেন। ফলে “যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নিলেই আর নাগরিকত্ব পাওয়া যাবে না”—এমন কোনো সার্বিক নিয়ম বর্তমানে কার্যকর হয়নি।

নতুন নির্বাহী আদেশের একটি বিশেষ কিছু শ্রেণির শিশুর স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্ব সীমিত করার চেষ্টা করছে। এর মধ্যে বিদেশি সরকারের নির্দিষ্ট কর্মচারীদের সন্তান, ‘enemy alien’ হিসেবে বিবেচিত ব্যক্তিদের সন্তান এবং নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে প্রতারণার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু পরিস্থিতি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এসব ক্ষেত্র চতুর্দশ সংশোধনীর সুরক্ষার বাইরে বা আলাদাভাবে বিবেচনার সুযোগ রয়েছে।

অন্য নির্বাহী পদক্ষেপটির লক্ষ্য ‘birth tourism’—অর্থাৎ সন্তানকে মার্কিন নাগরিকত্ব দেওয়ার উদ্দেশ্যে বিদেশি নারীদের যুক্তরাষ্ট্রে এসে সন্তান জন্ম দেওয়ার প্রবণতা। এ ধরনের উদ্দেশ্য শনাক্ত হলে ভিসা প্রদান ও যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ আরও কঠোর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের বর্তমান ব্যবস্থার সমালোচনা করে আসছেন। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ক্ষমতায় ফিরে তিনি এমন একটি নির্বাহী আদেশ দিয়েছিলেন, যেখানে অবৈধভাবে অবস্থানরত মা কিংবা সাময়িক ভিসায় থাকা মায়ের সন্তানকে—যদি বাবা মার্কিন নাগরিক বা গ্রিনকার্ডধারী না হন—স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্ব না দেওয়ার নির্দেশ ছিল।

তবে সেই বিস্তৃত উদ্যোগ আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্ট জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের সাংবিধানিক সুরক্ষা বহাল রাখায় ট্রাম্প প্রশাসন এখন তুলনামূলকভাবে সংকীর্ণ কিছু শ্রেণিকে লক্ষ্য করে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনী অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী এবং দেশটির বিচারিক এখতিয়ারের অধীন ব্যক্তি জন্মের সময় থেকেই মার্কিন নাগরিক হিসেবে স্বীকৃত হন। এই নীতিই ‘Birthright Citizenship’ বা জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব নামে পরিচিত।

নাগরিক অধিকার সংগঠন ও অভিবাসন আইন বিশেষজ্ঞদের অনেকেই বলছেন, ট্রাম্পের নতুন নির্বাহী আদেশগুলোও আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। তাদের মতে, নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে সংবিধানে সুরক্ষিত নাগরিকত্বের অধিকার উল্লেখযোগ্যভাবে সংকুচিত করার সুযোগ খুবই সীমিত। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্য, নতুন আদেশগুলো সুপ্রিম কোর্টের রায়ের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয় এবং এগুলো নির্দিষ্ট ব্যতিক্রম ও অপব্যবহার ঠেকাতেই নেওয়া হয়েছে।

অভিবাসী পরিবারগুলোর জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া অধিকাংশ শিশুর জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব এখনো বহাল আছে। নতুন আদেশের আইনি বৈধতা এবং বাস্তবে কতটা কার্যকর করা যাবে, তা আগামী দিনের আদালতীয় লড়াইয়ের ওপর নির্ভর করবে।

ছবি: সংগৃহীত | হোয়াইট হাউস

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles