বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরক্ষা চুক্তিতে আগ্রহী হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ বছরের শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন আলোচনায় বিষয়টি জোরের সঙ্গে তুলছে। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নিলেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবে কী আছে, তা খোঁজ নিতে শুরু করেছে।
ঢাকা ও ওয়াশিংটনে কর্মরত বাংলাদেশের কূটনীতিকেরা সম্প্রতি জানিয়েছেন, বছরের জানুয়ারি থেকে অস্ত্র বিক্রির প্রসঙ্গ তুলে বাংলাদেশের সঙ্গে সামরিক চুক্তির বিষয়টিকে সামনে এনেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ নিয়ে ওয়াশিংটনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্র সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের সঙ্গে নিরাপত্তাবিষয়ক আলোচনায় আকসা আর জিসোমিয়া সইয়ের কথা তুলেছে।
জানা গেছে, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমন এবং নিরাপত্তা অংশীদারত্বের সাফল্য বিবেচনায় বাংলাদেশের সঙ্গে এ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র আগ্রহী হয়ে উঠেছে।
নিরাপত্তা–সংক্রান্ত বিভিন্ন ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, আকসা বা দ্য একুইজেশন অ্যান্ড ক্রস-সার্ভিসিং অ্যাগ্রিমেন্ট হচ্ছে সামরিক রসদবিষয়ক একটি রূপরেখা চুক্তি। মূলত সামরিক রসদ সরবরাহ, এ–সংক্রান্ত নানা ধরনের সেবা আর মেরামতের উপাদান রয়েছে এই চুক্তিতে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ২০০২ সালে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে চুক্তিটি সই করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
ঢাকার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও ১৩ এপ্রিল ওয়াশিংটনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল মোমেনের সঙ্গে বৈঠকে আকসার প্রসঙ্গটি তুলেছেন। ঢাকায় গত ২ মে অনুষ্ঠিত নিরাপত্তা সংলাপে আকসা ও জিসোমিয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে দুই চুক্তির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তারা।
তবে কূটনীতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা বলছেন, বাংলাদেশের হুটহাট করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করাটা ঠিক হবে না। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি কোনো অঙ্গীকার দেশের স্বার্থের জন্য কতটা লাভ বা ক্ষতি, সেটা ভেবেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, মে মাসের শেষ সপ্তাহে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার বিষয়ে ঢাকায় একটি বৈঠক হয়। প্রায় দেড় ঘণ্টার এ বৈঠকে আকসা ও জিসোমিয়া নিয়ে আলোচনা হলেও মূলত আকসার বিষয়টি প্রাধান্য পেয়েছে। ওই আলোচনায় আকসার খসড়া নিয়ে দুই পক্ষ কথা বলেছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে চুক্তির খুঁটিনাটি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মার্কিন কর্মকর্তারা তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, ২০০৭ ও ২০০৮ সালে সেনা–সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে বাংলাদেশের সঙ্গে সোফা বা স্ট্যাটাস অব ফোর্সেস অ্যাগ্রিমেন্ট প্রায় চূড়ান্ত করে ফেলেছিল যুক্তরাষ্ট্র। শেষ পর্যন্ত চুক্তিটি আর হয়নি। তখন মূলত একটি জায়গায় এসে চুক্তি সই করা থেকে বাংলাদেশ সরে এসেছিল। একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ হিসেবে অবারিতভাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রতিনিধি আর অস্ত্রের বাংলাদেশে প্রবেশাধিকার দেওয়ার বিষয়ে আপত্তি আছে। যুক্তরাষ্ট্র কেন, কোনো দেশকেই এ ধরনের সুযোগ দেওয়ার প্রশ্ন ওঠে না। এ আপত্তির কারণে শেষ পর্যন্ত চুক্তিটি সই হয়নি।










