নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণের মধ্যে ফিলিপাইন প্রথম দেশ হিসেবে তার শেয়ারবাজার অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে দিয়েছে।
এর
মধ্যে দেশটি মুদ্রাবাজার ও বন্ড বাণিজ্যও বন্ধ রেখেছে।
শেয়ারবাজার কর্তৃপক্ষ ট্রেডার্সদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানিয়েছে।
খবর রয়টার্স।
দেশটির সব আর্থিক বাজার পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ফিলিপাইন স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান র্যামন মনজুন বলেন, পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত শেয়ারবাজার বন্ধ থাকবে। এ সিদ্ধান্ত ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার হাত থেকে কর্মচারী ও ট্রেডার্সদের রক্ষা করবে বলে জানিয়েছেন তিনি। দেশটির প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতার্তের নির্দেশে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান ক্যাপিটাল ইকোনমিক্স শেয়ারবাজার বন্ধের বিষয়ে একটি সম্ভাব্য পরিস্থিতির কথা জানিয়েছিল। মূলত শেয়ারের ইকুইটি প্রাইজ পতনের অভূতপূর্ব গতির কারণে শেয়ারবাজার বন্ধের পরামর্শ দেয়া হয়েছিল। এর মধ্যে বৈশ্বিক শেয়ারবাজার বিরূপ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। শেয়ারবাজারের বৈশ্বিক প্রতিকূল পরিস্থিতি এ সিদ্ধান্তে প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে। অ্যাডমার্কোর গবেষণা প্রধান প্যাট্রিক প্যারেট গ্রিনও শেয়ারবাজার বন্ধের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছিলেন। এরূপ পরিস্থিতি আগেও প্রত্যক্ষ করা হয়েছে বলে জানিয়েছিলেন তিনি। এ মুহূর্তে সরকার কোনো বাড়তি চাপ কিংবা ক্ষতির মুখে পড়তে চায় না বলে এ সিদ্ধান্তের দিকে অগ্রসর হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। তবে দেশটির ট্রেজারার রোজালিয়া ডি রিয়ন জানিয়েছেন, ভাইরাস ভীতিতে দেশজুড়ে অচলাবস্থার মধ্যে বন্ধ হওয়া মুদ্রাবাজার ১৮ মার্চ পুনরায় চালু হবে।
এদিকে মালয়েশিয়ায় ১৮ মার্চের পর অচলাবস্থা জারি করলেও পুঁজিবাজারের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে নিয়ন্ত্রকরা জানিয়েছেন। এর মধ্যে কুয়েত শেয়ারবাজারে চলতি মাসে দুবার কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করেছে। এ সময়ে দৈনিক ১০ শতাংশেরও বেশি দর পতন হয়েছে বাজারের। এদিকে ইন্দোনেশিয়ার শেয়ারবাজারেরও একই অবস্থা বিরাজ করছে। জাকার্তা শেয়ারবাজার (জেকেএসই) একটি নতুন সার্কিট চালু করেছে। শেয়ারের মূল্য ৫ শতাংশ কমে গেলে সূচকটি আধা ঘণ্টার মধ্যে লেনদেন বন্ধ করে দেয়। ইন্দোনেশিয়ার শেয়ারবাজারের এ সিদ্ধান্ত ইতালি, স্পেন ও দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারের স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ নীতি থেকে অনুপ্রাণিত। এ দেশগুলো বাজারে স্বল্প বিক্রির জন্য বিধিনিষেধ নীতি প্রয়োগ করেছে।
তবে ক্যাপিটাল ইকোনমিক্স বলছে, বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টিভঙ্গি ও স্পর্শকাতরতা প্রশমন করতে এ ধরনের সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা কম। পরামর্শকরা জানিয়েছেন, স্বাস্থ্যগত ঝুঁকির কারণে অন্য ব্যাবসাগুলো বন্ধ করার পদক্ষেপ নেয়া উচিত ছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজার অতীতে কিছু ব্যতিক্রমী ঘটনার কারণে বন্ধ হয়েছিল। দেশটিতে ৯/১১ সন্ত্রাসী হামলার পর শেয়ারবাজার বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। বাজারে আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছিল। তবে সব সময় এ ধরনের প্রচেষ্টা কাজে না-ও আসতে পারে বলে বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন। ক্যাপিটাল ইকোনমিক্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীরা যেকোনো কিছু বিক্রি করতে পারে। এক্ষেত্রে আতঙ্কিত হয়ে শেয়ার বিক্রির দিকে অগ্রসর হচ্ছে তারা।
বর্তমানে বৈশ্বিক শেয়ারবাজারের অবস্থা খুবই নাজুক। এর মধ্যেই ১৪ লাখ কোটি মূল্যমানের শেয়ারের দর মুছে ফেলা হয়েছে। এমনকি ক্ষতি পোষাতে স্বর্ণের মতো নিরাপদ সম্পদও বিক্রি করা হচ্ছে। ফিলিপাইন বেঞ্চমার্কের সূচক সোমবারে ৮ শতাংশ পতনের মুখে পড়েছে। চলতি মার্চ মাসে এ সূচক ২০ শতাংশের নিচে অবস্থান করেছে। ফিলিপাইনের শেয়ারবাজার ২০০৮ সালের অক্টোবরের পর বর্তমানে সবচেয়ে বিরূপ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।











