শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬ বিকেলে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে তিনি স্বাক্ষরিত পদত্যাগপত্র পাঠান। পরে সংবাদ সম্মেলনে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন স্পিকার।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা থাকলেও তিনি সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যগত কারণেই পদত্যাগ করেছেন। তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতির সুস্বাস্থ্য ও মঙ্গল কামনা করেন।
পদত্যাগপত্রে মো. সাহাবুদ্দিন তাঁর শারীরিক ও মানসিক অসামর্থ্যের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত জটিলতায় ভুগছেন। সম্প্রতি তাঁর শরীরে ‘অটোনমিক নিউরোপ্যাথি’ শনাক্ত হয়েছে, যার কারণে তিনি মাঝেমধ্যে অল্প সময়ের জন্য অচেতন হয়ে পড়েন।
মো. সাহাবুদ্দিন তাঁর পদত্যাগপত্রে দাবি করেন, দায়িত্ব পালনকালে তাঁর দৃঢ় ও ইতিবাচক ভূমিকার কারণে দেশে কোনো সাংবিধানিক বিপর্যয় ঘটেনি। বর্তমান শারীরিক অবস্থায় রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা সম্ভব নয় বলে তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
স্পিকার জানান, বাংলাদেশের সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুসারে রাষ্ট্রপতি স্পিকারের উদ্দেশে লিখিত ও স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে পদত্যাগ করতে পারেন। পদত্যাগপত্র গ্রহণের পর সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে।
মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। নির্ধারিত পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই প্রায় তিন বছর তিন মাস দায়িত্ব পালনের পর তিনি পদত্যাগ করলেন।
ছবি: সংগৃহীত





