স্বাস্থ্য ডেস্ক : এক সময় যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম ছিল এই কবুতর। আজকালও খবরের কাগজে কবুতরের গোয়েন্দাগিরি নিয়ে নানা খব দেখতে পাওয়া যায়। অনেকেই শখের বশে কবুতর পোষেন। কিন্তু আপনি জেনে অবাক হবেন যে ছোট এই পোষা পাখিটির মাংসে রয়েছে চমৎকার পুষ্টিগুন।
আপনার এই প্রিয় পোষা পাখির মাংস স্বাস্থ্যের জন্য কতটা উপকারী, তা হয়তো জানা নেই অনেকেরই!
কবুতরের মাংস খুবই মজাদার। বিশেষ করে কবুতরের মাংস পাতে দেখলেই ঝে জিভে জল চলে আসে কমবেশি সবার।
আপনি কি জানেন কবুতরের মাংসের স্বাদ মুরগির মাংসের চেয়ে আরও সুস্বাদু? আকারে ছোট হলেও কবুতরের মাংসে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন রয়েছে। প্রচলিত আছে একটি কবুতরের মাংসে থাকা পুষ্টিগুন ৯ টি মুরগির পুষ্টির সমান। এক গবেষণায় দেখা যায় অন্যান্য মাংসের তুলনায় কবুতরের মাংসে প্রায় ২-২৪ শতাংশ বেশি প্রোটিন রয়েছে। এবং এতে ফ্যাটের পরিমান খুবই সামান্য প্রায় ১ শতাংশ। এছাড়াও এই মাংসে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন এ, বি, ই ও ভিটামিন ডি এবং আয়রন, জিঙ্ক, সেলেনিয়াম ও কপার রয়েছে।
প্রতি ১০০ গ্রাম গরুর মাংসে ১৮.৮ গ্রাম প্রোটিন থাকে, আর ১০০ গ্রাম কবুতরের মাংসে প্রোটিনের পরিমাণ ১৭.৫ গ্রাম যা গরুর মাংসের কাছাকাছি।
আশা করছি আপনি ইতিমধ্যে কবুতরের মাংস খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে বেশ ভালো ধারনা পেয়ে গেছেন। প্রচুর পুষ্টিগুনের পাশাপাশি আরও কিছু বিশেষ উপকারিতাও রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে কবুতরের মাংস একটি ভালো খাদ্যের পাশাপাশি ভালো ওষুধও। এতে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় নানা পুষ্টি উপাদান রয়েছে। কম চর্বি থাকায় এটি একটি ভালো পরিপুরক পুষ্টিকর খাবার। কবুতরের মাংস রক্তের লিপিড ও শর্করা বাড়ায় না।
কবুতরের মাংসে রয়েছে প্রচুর প্রোটিন ও ভিটামিন । যা আপনার শরীরের পুষ্টি চাহিদা পুরনের পাশাপাশি রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে বেশ কার্যকরী। অস্ত্রপাচারের পর রোগীর ক্ষত পুনরুদ্ধার ও নিরাময়ে ভালো ভুমিকা পালন করে।
পেশি ব্যথা কমায়, ত্বক ও চুলের বিবর্ণতা রোধ করে। এমনকি ক্যানসার ও হৃদরোগের ঝুঁকিও কমে নিয়মিত কবুতরের মাংস খেলে। এছাড়াও ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য কবুতরের মাংস বিশেষ উপকারি।
পুষ্টিতে সমৃদ্ধ কবুতরের মাংস মস্তিষ্কের উন্নয়ন ও স্মৃতিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এটি আপনার স্কিন বা ত্বকের সতেজতা বৃদ্ধি করতে বেশ কার্যকরী।
চাইনিজ চিকিৎসা বিজ্ঞান মতে কবুতরের মাংস লিভারের উন্নতি সাধন ও কিডনি শক্তিশালী করে। এছাড়াও রক্ত পুষ্ট করে তোলে ও শরীরের তরল উপাদানের মান উন্নয়নে ভুমিকা পালনকরে। যা আপনাকে দীর্ঘ স্থায়ী অসুস্থতা ও শারীরিক দুর্বলতা থেকে মুক্তি দেয়।










