দক্ষিণ কোরিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো, কারিগরি দক্ষতা উন্নয়ন এবং দুই দেশের শ্রমবাজারে সহযোগিতা জোরদার করতে সিউলে দুটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার অনুষ্ঠিত বৈঠকগুলোতে বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মোঃ নুরুল হক, এমপি, দক্ষিণ কোরিয়ার ন্যাশনাল এমপ্লয়মেন্ট সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন অব কোরিয়া (NESA) এবং কনস্ট্রাকশন অ্যাসোসিয়েশন অব কোরিয়া (CAK)-এর প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করেন।
ইপিএসের আওতায় কর্মসংস্থান বাড়ানোর আলোচনা
NESA-এর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে দক্ষিণ কোরিয়ার এমপ্লয়মেন্ট পারমিট সিস্টেম (EPS)-এর আওতায় বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য আরও বেশি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী। একই সঙ্গে নিয়মিত চাকরির পাশাপাশি মৌসুমি কর্মসংস্থান, কারিগরি প্রশিক্ষণ, কোরীয় ভাষা শিক্ষা এবং বৃত্তিমূলক দক্ষতা উন্নয়নে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
দক্ষিণ কোরিয়ার শিল্পায়ন ও মানবসম্পদ উন্নয়নে অর্জিত সাফল্যের প্রশংসা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশটির শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ, যোগ্য ও প্রশিক্ষিত কর্মী তৈরিতে বাংলাদেশ প্রস্তুত রয়েছে।
বৈঠকে NESA-এর প্রতিনিধিরা কোরীয় ভাষা শিক্ষা, পেশাভিত্তিক প্রশিক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগিতায় বাংলাদেশি কর্মীদের অবদানের সম্ভাবনা তুলে ধরেন। পাশাপাশি কর্মীদের বিদেশযাত্রার আগে ব্যবহারিক কোরীয় ভাষা শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রভিত্তিক প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়। এর মাধ্যমে বাংলাদেশি কর্মীদের দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মপরিবেশের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নির্মাণ খাতে বাংলাদেশি কর্মীদের সুযোগ সম্প্রসারণ
অন্যদিকে, কনস্ট্রাকশন অ্যাসোসিয়েশন অব কোরিয়া (CAK)-এর প্রতিনিধিদের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে দক্ষিণ কোরিয়ার নির্মাণশিল্পে বাংলাদেশি কর্মীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী।
তিনি দেশটির নির্মাণপ্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশি কর্মীদের যোগাযোগ ও সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেন। আন্তর্জাতিক নির্মাণ খাতে বাংলাদেশি কর্মীদের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি কারিগরি প্রশিক্ষণ, পেশাগত দক্ষতা এবং কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে CAK ও দক্ষিণ কোরিয়ার শীর্ষস্থানীয় নির্মাণপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরা নির্মাণ খাতে নিরাপত্তা, কার্যকর যোগাযোগ এবং নির্দিষ্ট কারিগরি দক্ষতার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাঁদের আলোচনায় ব্যবহারিক কোরীয় ভাষায় দক্ষ এবং নির্মাণকাজে প্রয়োজনীয় কারিগরি যোগ্যতাসম্পন্ন বাংলাদেশি কর্মীদের নিয়োগের সম্ভাবনাও উঠে আসে।
দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্ব
দুটি বৈঠকেই বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র অনুসন্ধান, প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং বিদেশযাত্রার আগে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
আলোচনায় গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোর দ্রুত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে দক্ষিণ কোরিয়ার সংশ্লিষ্ট দপ্তর এবং সিউলে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখার নির্দেশনা দেন প্রতিমন্ত্রী।
সংশ্লিষ্টদের আশা, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ কোরিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি তাঁদের দক্ষতা ও পেশাগত সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। একই সঙ্গে দুই দেশের শ্রমবাজারে সহযোগিতা আরও গভীর হবে এবং বাংলাদেশি অভিবাসী কর্মীদের জন্য নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও উৎপাদনশীল কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার পথ সুগম হবে।





