দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর উৎসবমুখর পরিবেশে চলছে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম বিক্রি। অন্যদিকে আন্দোলনে জোর দিয়েছে বিএনপি। এরই মধ্যে আন্দোলন জোরদার করতে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে দলীয় হাইকমান্ড। নেতাকর্মীদের উদ্দেশে কঠোর বার্তা দিয়ে দলটি বলেছে, এই মুহূর্তে নির্বাচনে অংশগ্রহণ নয়; সরকারের পদত্যাগ ও নিরপেক্ষ সরকারসহ এক দফা দাবিতে চলমান আন্দোলন জোরদার করতে হবে।
তবে বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে যেসব নেতা রাজপথে সক্রিয় কিংবা সহযোগিতা করছেন না তাদের তালিকা তৈরি হচ্ছে এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে বিএনপির কয়েকটি সূত্র।
এ বিষয়ে বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ এক নেতা আমাদের সময়কে বলেন, এসব নেতাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিতে তালিকা করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে যারা ভূমিকা রাখবে তাদের মধ্য থেকে দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ইতিমধ্যে ঢাকা মহানগরে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছে।
এ ছাড়া শান্তিপূর্ণভাবে রাজপথে জোরালো আন্দোলন গড়ে তুলতে নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘সকলে সাহসের ওপর ভর করে বুক চিতিয়ে রাজপথে উপস্থিত হবেন। অবাধ, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দাবিতে এই হরতাল। জনগণের মালিকানা জনগণকে ফেরত দিতেই এই দুর্বার আন্দোলন।’
এদিকে চলমান আন্দোলন সংগ্রামে অনুপস্থিত এবং অসহযোগিতার অভিযোগে আজ রোববার খাগড়াছড়ি গুইমারা উপজেলা বিএনপির সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদককে পদ থেকে সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে জেলা বিএনপি। একই সঙ্গে কার্যক্রম গ্রহণযোগ্য ও সন্তোষজনক হলে স্বপদে পুনরায় বহাল করা হবে বলেও জানানো হয়।
উল্লেখ্য, গত ২৮ অক্টোবর নয়াপল্টনে বিএনপির মহাসমাবেশ পুলিশের হামলায় পণ্ড করার প্রতিবাদে পরদিন ২৯ অক্টোবর সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দেওয়া হয়। এরপর পাঁচ দফায় মোট ১১ দিন সারাদেশে সড়ক, রেল ও নৌপথ অবরোধের কর্মসূচি পালন করে বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলো।
বিরোধী দলগুলোর অবরোধ কর্মসূচির মধ্যেই গত বুধবার নির্বাচন কমিশন ৭ জানুয়ারি ভোটের তারিখ ঠিক করে দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে। এর প্রতিবাদে এক ভার্চ্যুয়াল সংবাদ ব্রিফিংয়ে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী দুই দিনের হরতাল কর্মসূচির ঘোষণা দেন। অন্যান্য দল ও জোটও পৃথকভাবে একই দিনে হরতালের ডাক দেয়।
এদিকে হরতালকে কেন্দ্র করে শনিবার রাতে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাত্রীবাহী বাস, ট্রেন ও পিকআপ ভ্যানে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। হরতালের সমর্থনে বিভিন্ন স্থানে মশাল মিছিল করেন বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে পুলিশ, র্যাব ও বিজিবি।







