লেখক: দেওয়ান মাসুদুর রহমান চৌধুরী
আমেরিকা প্রবাসী জনাব হাসান আলী সাহেবের কথা মনে আসতেই আমার বার বার মনে পড়ছে শেরে বাংলা এ,কে ফজলুল হক এর শিক্ষক আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের উক্তিটি। তিনি আবুল মনসুর আহমদের সাথে আলাপ চারিতায় ফজলুল হক সম্পর্কে বলেছিলেন ঃ ফজলুল হক মাথার চুল থেকে নখ পর্যন্ত খাটি বাঙ্গালী। সেই সঙ্গে ফজলুল হক মাথার চুল থেকে পায়ের নখ পর্যন্ত খাটি মুসলমান। খাটি বাঙ্গালীত্বের সাথে খাটি মুসলমানিত্বের এমন অপূর্ব সমন্বয় আমি আর দেখি নাই। ফজলুল হক আমার ছাত্র বলে বলছি না, সত্য বলেই বলছি। খাটি বাঙ্গালীত্বে ও খাটি মুসলমানিত্বের সমন্বয়ই ভবিষ্যৎ বাঙ্গালীর জাতিয়তা।(গ্রন্থ ঃ আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর, পৃঃ ১৩৫-১৩৬) এসব কথাগুলো পাঠ করে সত্যিই জনাব হাসান আলী সাহেবের প্রতি শ্রদ্ধা, ভালবাসা আরও বেড়ে গেল।
আমরা সবাই জানি যে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যোদ্ধসহ যে কোন দূর্বিসহ সংকটে, দূর্বিপাকে প্রবাসী বাঙ্গালীরা আমাদের আগলে রেখে সার্বিক সহযোগিতা দিয়ে আমাদের দেশকে এগিয়ে যাওয়ার পথ করছেন মশ্রিন। এমন প্রেরণা আমাদের সঙ্গী বলেই দ্বিধাহীন পথে বাংলাদেশ হাটছে অবিরত।
গত ২৭/০৩/২০২১ তারিখে কলম-হাসান আলী সাহিত্য পুরস্কার ২০২১ সম্পন্ন হয়েছে। এ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পাঁচ জন বিশিষ্ট গুণী ব্যক্তিদেরকে সিলেটের কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের মিলনায়তনে প্রধান অতিথি সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর মাধ্যমে সম্মাননা ও উপহার তুলে দেওয়া হয়। পুরস্কার সব সময়ই আনন্দের, তারপরেও আমরা আজ আনন্দে আত্মহারা হতে পারছি না। কেননা মহামারী করোনার ছোবলে আমরা হারিয়েছি আমাদের সর্বস্থরের অসংখ্য প্রিয়জন। এসব শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি প্রকাশ করছি আন্তরিক ও গভীর সমবেদনা। করোনার ছোবলে পাল্টে গেছে সারা বিশ্বের সমস্ত অংক। পাল্টে গেছে এত দিনের গৎবাঁধা সূত্র। চলমান এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও আমাদের নিরন্তর লড়াই করে চলতে হচ্ছে দ্বিগুণ বেশী উদ্যমে।
বাংলাদেশের মানুষের আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটানো শিক্ষা ও সংস্কৃতির বিকাশ এবং জাতীয় উন্নয়নে অবদান রাখার ক্ষেত্রে জনাব হাসান আলী ও তার সংগঠন সমূহের ইতিবাচক ও কার্যকর ভূমিকা অনস্বীকার্য। বৃহত্তর সিলেটের জনগোষ্ঠী আজ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছেন। তারা বিভিন্ন দেশের উন্নয়নে অংশিদারিত্বের পাশাপাশি নিজ মাতৃভূমির প্রতি মমতার বন্ধনে আবদ্ধ রয়েছেন। মাতৃভূমির উন্নয়ন ও অগ্রগতির ক্ষেত্রে তাদের ভূমিকা স্বীকার্য।
হবিগঞ্জ জেলার ঐতিহ্যবাহী নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি ইউনিয়নের উমর পুর গ্রামের মাদরাসায় পড়ুয়া ছাত্র অন্য কেউ নন বরং তিনিই আমেরিকা প্রবাসী হাসান আলী পিতাঃ পীর সিদ্দিক আলী, মাতাঃ চান বিবি। মাদরাসায় অধ্যয়নের পরে তিনি স্কুল ও কলেজে অধ্যায়ন ও বিভিন্ন দেশ সফর করে এক সময়ে সুদূর আমেরিকায় আবাসস্থল গড়ে তুলেন। তখন ছিল ১৯৮২ সাল। সেখানেও পড়া-লেখার স্পৃহা তার বন্ধ হয়নি, তিনি সেন্টজন ইউনিভার্সিটি ও Pace university তে অধ্যায়ন করে বিজনেস ডিপ্লোমা অর্জন করেন।
আমেরিকায় তিনি রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক বিভিন্ন সংগঠনের সাথে জড়িত হয়ে নিজের মাতৃভূমি ও আমেরিকায় স্বসম্মানে, মেধা-মননে তার অবস্থান নির্নয় ও সার্থক ভূমিকা রাখতে সক্ষম হন। তন্মধ্যে সুদীর্ঘ প্রবাস জীবনে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি দায়িত্ব পালনের কথা উল্লেখ করা প্রয়োজন। যেমন ঃ ১৯৯১-১৯৯৩ পর্যন্ত নিউইয়র্ক সিটির পুলিশ ডিপার্টমেন্টে এশিয়ান-আমেরিকান এডভাইজারী কাউন্সিলের অনারারী কো-চেয়ারম্যান।
১৯৯২ সালে প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের কনভেনশন কমিটির সদস্য।
১৯৯২-১৯৯৬ পর্যন্ত জাতিসংঘের NGO প্রতিনিধি।
১৯৯২-২০০০ পর্যন্ত কুইন্স ডিষ্ট্রিকট এটর্নী অফিসে এশিয়ান-আমেরিকান এডভাইজারী কাউন্সিলের কো-চেয়ারম্যান।
১৯৯৩ সালে প্রেসিডেন্টের শপথ অনুষ্ঠানে যোগদান।
১৯৯৪-১৯৯৮ পর্যন্ত নিউইয়র্ক সিটি কনজুমার ডিপার্টমেন্টে এশিয়ান-আমেরিকান এডভাইজারী কাউন্সিলের অনারারী কো-চেয়ারম্যান।
২০০২ হতে ডেমোক্রেটিক পার্টির নির্বাচিত মেম্বার।
২০০৩ – কমিউনিটি বোর্ডের মেম্বার।
২০০৯ – প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার অনারারী কিচেন কেবিনেট মেম্বার।
হাসান আলী – প্রেসিডেন্ট অরগানাইজেশান অব বাংলাদেশী-আমেরিকান্স ও কো-অর্ডিনেটর গ্লোবাল ভিলেজ লিডারশীপ কমিটি, ইউ,এস, এ।
পাশাপাশি বাংলাদেশী মানুষের শিক্ষ-দীক্ষা, আর্তমানবতার সেবা, নিরীহ মানুষের কল্যাণ, সমাজ সংস্কার প্রভৃতি জনহিতকর কার্যে তার দারুণ আগ্রহ লক্ষণীয়। এছাড়া শিক্ষা-সংস্কৃতি প্রসারে ও স্বদেশ প্রেমী আদর্শ প্রজন্ম হয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণে ব্রতের প্রত্যয় নিয়ে মানবীয় সম্প্রীতি, ভালবাসা, সহানুভূতি ও মানবীয় সম্ভাবনা তাকে আকৃষ্ট করে রেখেছে, তাই কবি তার ভাষায় বলেন ঃ
মানুষ যদি হইতে চাও, কর মানুষের ভজনা
সবার উপরে মানুষ, সৃষ্টিতে নাই তার তুলনা।
সেবা খাতে ব্যাপক উন্নয়ন ও প্রসার, শিক্ষা স্বাস্থ্য, বিশেষ করে মানব উন্নয়ন ও অবহেলিত মানুষের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দিয়ে নিরাপত্তা বলয় সৃষ্টি করে উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় সকলের অংশ গ্রহন নিশ্চিত করনে প্রত্যাশী হয়ে তার কতিপয় আহ্বান ও সংগঠন সমূহ ;
সিলেট এম সি কলেজ এলামনাইদের কাছে খোলা চিঠি।
জাতি গঠনে যুব কবিদের এগিয়ে আসার আহবান।
অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জনে বাংলাদেশী-আমেরিকান মুসলমানদের এগিয়ে আসার আহবান।
প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের প্রতি হাসান আলীর খোলা চিঠি।
বাংলাদেশী গরীব মানুষের কল্যাণে প্রবাসীদের এগিয়ে আসার আহবান।
আমেরিকার মূলধারার রাজনীতিতে যোগ দিয়ে অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখার আহবান।
মুসলিম বিশ্বের সাথে সম্পর্ক উন্নয়ন ও আমেরিকার অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জনে বাংলাদেশী আমেরিকান মুসলমানদের এগিয়ে আসার আহবান।
কলম হাসান আলী ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে সেবা দান।
বাংলাদেশী আমেরিকান জার্ণাল।
আমাদের মানব সম্পদকে সঠিক ভাবে তথ্য প্রযুক্তির কাজে লাগিয়ে ও শিল্পায়নে সম্ভাবনার দিগন্তকে স্বদেশ প্রেমী হাসান আলী প্রসারিত করতে চান। বিভিন্ন সাহিত্য – সংস্কৃতি- সংগঠনের সাথে জড়িয়ে তরুণ সাহিত্য সেবীদের অনুপ্রেরণা যোগাচ্ছেন। সত্যিকার অর্থে হাসান আলী মানব মুক্তির স্বপ্নদ্রষ্টা। তিনি সুন্দর মুক্ত সমাজ বিনির্মানের স্বপ্ন দেখেন। তার ধৈর্য, সাহস ও দৃঢ়তা নিয়ে সুদীর্ঘ প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সামাজিক, রাজনৈতিক, মানবকল্যাণে সচেষ্ট ভূমিকায় নিবেদিত। তিনি অতীব দানশীল, দেশ, জাতি ও সমাজের সার্থে বহুমুখী পরিকল্পনার সায়রে সাতার কাটছেন।
আললাহ তাআ’লা তার এ নিঃস্বার্থ পরিশ্রম কবুল করুণ এবং উত্তম প্রতিদান দিন। পরিশেষে তার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ূ কামনা করছি। আমীন।
সহ-সভাপতি তরফ সাহিত্য পরিষদ,
মহাসচিব, আল-হেরা ইসলামী গবেষণা পরিষদ, হবিগঞ্জ।
০৪ এপ্রিল ২০২১ খ্রিঃ
(Facebook এর কল্যাণে হাসান আলী সাহেবের সাথে পরিচয় ও বিভিন্ন লিখা
হতে তথ্য সংগৃহীত। ভুলত্রুটি মার্জনিয়)






