বিভীষিকাময় একুশ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে এখনও অধরা ১৬ আসামি। রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িকসহ নানা সুযোগ নিয়ে এসব আসামি যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য ও আফ্রিকাসহ বিভিন্ন দেশে সুকৌশলে অবস্থান করছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। পলাতকদের মধ্যে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও বিএনপির সাবেক এমপি শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থার (ইন্টারপোল) রেড অ্যালার্ট স্থগিতের পর নতুন করে আর তা জারি করা হয়নি।
এমনকি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত হারিছ চৌধুরী ‘মারা গেছেন’ বলে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হলেও ইন্টারপোলের রেড নোটিসের তালিকায় এখনও ঝুলছে তার ছবি সংবলিত নাম। এ বিষয়ে পুলিশ সদর দফতর এখনও নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছে না। এ অবস্থায় পলাতক মোট ১৬ আসামিকে কোন প্রক্রিয়ায় কীভাবে দেশে ফিরিয়ে এনে সাজা কার্যকর করা হবে তা নিয়ে দেখা দিয়েছে সংশয়।
আজ বিভীষিকাময় সেই ২১ আগস্ট। ২০০৪ সালে এ দিনে রাজধানীর গুলিস্তানে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলায় ২৪ জন নিহত এবং তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আহত হন তিন শতাধিক নেতাকর্মী। তবে নিহতদের মধ্যে দুজনের পরিচয় এখনও মেলেনি। সেদিনের সেই নারকীয় হত্যাযজ্ঞে হতাহতদের স্মরণে আজ ২১ আগস্ট নানা কর্মসূচি পালন করবে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সংগঠন।
একুশ আগস্টের বীভৎস ওই হামলা মামলায় মোট ৪৯ জন আসামী ছিলেন। যাদের মধ্যে ১৯ জনকে যাবজ্জীবন এবং ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। বাকিদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেন আদালত।
পুলিশ সদর দফতরের তথ্য মতে, গ্রেনেড হামলা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত ৪৯ আসামির মধ্যে ৩৩ জনকে এ পর্যন্ত গ্রেফতার করা হয়েছে। বর্তমানে ১৬ জন আসামি বিভিন্ন দেশে পলাতক আছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ প্রসঙ্গে পুলিশ সদর দফতরের এআইজি (মিডিয়া) মো. কামরুজ্জামান সময়ের আলোকে বলেন, গ্রেনেড হামলা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামিদের গ্রেফতার করে দেশে ফিরিয়ে আনতে পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গেই কাজ করে যাচ্ছে। এ বিষয়ে ইন্টারপোলসহ কূটনৈতিক সম্পর্কগুলোকে কাজে লাগানো হচ্ছে।
পলাতক আসামিরা কে কোথায় : পুলিশ সদর দফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পলাতক ১৬ আসামির মধ্যে তারেক রহমানসহ কয়েকজনের স্পষ্ট অবস্থান জানা গেলেও বেশিরভাগেরই অবস্থান নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করা যায়নি। তবে অধিকাংশের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য অবস্থান জানা গেছে বলে জানিয়েছেন দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা। পলাতকদের মধ্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রায় এক যুগের বেশি সময় ধরে সপরিবারে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে অবস্থান করছেন। গ্রেনেড হামলা মামলায় তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অভিযোগপত্রে তাকে ‘পলাতক’ হিসেবে দেখানো হয়েছে। এ ছাড়া অর্থপাচার এবং দুর্নীতির মামলাতেও তিনি সাজাপ্রাপ্ত হয়েছেন। যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত অন্য আসামি হারিছ চৌধুরী, যিনি কিছুদিন আগে ‘মারা গেছেন’ বলে পরিবারের বরাত দিয়ে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়। যদিও পুলিশ এখনও তা নিশ্চিত করেনি। বিএনপি সরকারের সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী ২০০৭ সালে সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। তার অবস্থান সম্পর্কে কেউ নিশ্চিত না হলেও যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ একাধিক দেশে আসা-যাওয়া ছিল বলে তথ্যে বলা হয়। কিন্তু তার মারা যাওয়ার খবরের সঙ্গে হারিছ চৌধুরী বাংলাদেশেই আত্মগোপনে ছিলেন বলে দাবি করা হয়।







