দেশে জ্বালানি তেলের দাম কমবে কবে

0
42

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রভাবে প্রতিটি পণ্যের দাম বেড়েছে দেশের বাজারে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার কারণে দেশেও দাম বাড়ায় সরকার। দাম বাড়ানোর সময় বলা হয়েছিল, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলে দেশের বাজারেও দাম সমন্বয় করা হবে। সম্প্রতি জ্বালানি তেলের দাম ব্যাপকভাবে কমে গেছে বিশ্ববাজারে। কিন্তু দেশের বাজারে এখন পর্যন্ত দাম কমানোর কোনো লক্ষণ নেই। সহসাই জ্বালানি তেলের দাম কমবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই বেড়ে গেছে সব নিত্যপণ্যের দাম। বাড়ানো হয়েছে বাস-ট্রাক-লঞ্চের ভাড়া। চাল, ডাল, তেল ও সবজিসহ প্রায় সবকিছুর দাম বাড়ার কারণে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তদের জীবনযাত্রায়। বিশ্ববাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত জ্বালানি তেলের দাম না কমালে অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাবের আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা।

ব্র্যাক ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর সময়ের আলোকে বলেন, ‘আমাদের দেশে দাম একবার বাড়লে আর কমার কোনো রেকর্ড নেই। তবে এবার জ¦ালানি তেলের দাম যে হারে বাড়ানো হয়েছে তা দ্রুতই সমন্বয় করতে হবে। নয়তো সমাজে একটি ভয়ঙ্কর বৈষম্য তৈরি হবে। সাধারণ জনগণের ভোগান্তি কমাতে জ্বালানি তেলের দাম কমানোর কোনো বিকল্প নেই।’

তবে খুব দ্রুত জ্বালানি তেলের দাম কমছে না বলে জানিয়েছেন বিপিসির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। তিনি সময়ের আলোকে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজার তো এই বাড়ে এই কমে। আমরা তো আর সেভাবে প্রতিদিন বাড়াতে বা কমাতে পারব না। এখন দাম কম আছে, তাই যদি আমরা কমিয়ে দেই আর পরদিনই যদি দাম বেড়ে যায় তবে? আমরা আরো কয়েক দিন পর্যবেক্ষণের কথা ভাবছি।’

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি গোলাম রহমান সময়ের আলোকে বলেন, ‘বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমলে দেশেও দাম কমাতে হবে। সরকার ও বিপিসি এ বিষয়ে অঙ্গীকার করেছে। যদি দ্রুতই দাম সমন্বয় না করা হয় তবে আমাদের পক্ষ থেকে সরকার এবং বিপিসিকে জানানো হবে।’

চলতি মাসের ৫ তারিখে মধ্যরাতে জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। ৬ তারিখেই কার্যকর হয় নতুন দাম। বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণ দেখিয়ে দেশের বাজারেও দাম বাড়ানো হয়। এর আগে গত নভেম্বরের শুরুতে আরও একবার এক লাফে লিটারে ডিজেল ও কেরোসিনের দাম ১৫ টাকা বাড়ায় সরকার। এর ফলে গণপরিবহনে অস্থিরতা ও বাজারে সিন্ডিকেটকারীদের দৌরাত্ম্য বাড়ে। ৭ নভেম্বরে একবার ভাড়া বাড়ে গণপরিবহনের। এরপর চলতি মাসেও আরেক দফা বাড়ে বাস, ট্রাক ও লঞ্চ ভাড়া। যার বিরূপ প্রভাব পড়েছে পণ্য ও পণ্য পরিবহনে।

আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি আর ভারতে পাচারের আশঙ্কা করে দাম বাড়ানো হয় যখন তখন প্রতি ব্যারেলের দর ছিল ১১৭ ডলার। কয়েক দফায় কমে এখন তা নেমে এসেছে প্রায় ৯১ ডলারে। এখন বিশ্ববাজারে দাম কমায় দেশের বাজারেও দাম সমন্বয় করার জন্য বলছেন বিশ্লেষকরা।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) জ্বালানি তেল বিক্রিতে লোকসান গুনছে বলে দাম বাড়াতে তোড়জোড় শুরু করে। কিন্তু এখন দাম সমন্বয় করার পর উচ্চহারে লাভ করছে বলে জানান বিপিসির এক কর্মকর্তা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, ‘দাম কমেছে বিশ^বাজারে। দেশের বাজারে সরকার যখন কমাবে তখন কমবে। তবে গেল কয়েক মাসে যে পরিমাণ লস হয়েছে তা সমন্বয় করাও জরুরি।’

এর আগের ৭ বছরে ৪৮ হাজার কোটি টাকা লাভ করার প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘বিপিসি বরাবরই লোকসানি কোম্পানি ছিল। আগের বছরগুলোতে যে লস করেছে সে টাকার সমন্বয় করেছে সে লাভ দিয়ে।’

এর আগে গেল ৫ আগস্ট ভোক্তা পর্যায়ে লিটারপ্রতি ডিজেল ১১৪ টাকা, কেরোসিন ১১৪ টাকা, অকটেন ১৩৫ টাকা এবং পেট্রোলের দাম ১৩০ টাকা নির্ধারণ করেছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ।

সর্বশেষ ২০২১ সালের ৪ নভেম্বর ডিজেল ও কেরোসিনের দাম বাড়ানো হয়। সে সময় এই দুই জ্বালানির দাম লিটারপ্রতি ৬৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮০ টাকা করা হয়। ৮ মাসের ব্যবধানে আবার বাড়ানো হলো তেলের দাম। তবে ওই সময় পেট্রোল আর অকটেনের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছিল। এবার সব ধরনের জ্বালানি তেলেরই দাম বাড়ানো হয়েছে।

দাম বাড়ানোর পর থেকে লিটারপ্রতি ডিজেল ৮০ টাকা থেকে ৩৪ টাকা বেড়ে ১১৪ টাকা, কেরোসিন ৩৪ টাকা বেড়ে ১১৪ টাকা, অকটেন ৪৬ টাকা বেড়ে ১৩৫ টাকা ও পেট্রোল ৪৬ টাকা বাড়িয়ে ১৩০ টাকা দরে বিক্রি হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here