চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য খালাসের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা বাড়াতে অনলাইন ই-চালান ব্যবস্থায় যুক্ত হয়েছে দুটি নতুন নম্বর। এর মাধ্যমে কাস্টমসের শুল্ক-কর এবং বন্দর কর্তৃপক্ষের ফি-মাশুল পরিশোধের তথ্য যাচাই করা আরও সহজ হবে।
পণ্য খালাসে জালিয়াতি ঠেকাতে নতুন উদ্যোগ
চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য খালাসের প্রক্রিয়াকে আরও নিরাপদ, স্বচ্ছ ও দ্রুত করতে অনলাইন ই-চালান ব্যবস্থায় নতুন সুবিধা চালু করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (সিপিএ)। পেমেন্ট নিশ্চিতকরণ এবং জালিয়াতি প্রতিরোধের লক্ষ্যে টার্মিনাল অপারেটিং সিস্টেমের (টিওএস) আওতায় ই-চালানে দুটি নম্বর যুক্ত করা হয়েছে।
২০২৬ সালের ১৩ অক্টোবর প্রকাশিত বন্দর কর্তৃপক্ষের বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিটি পাঠান চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) সৈয়দ রেফায়েত হামিম।
নতুন এই উদ্যোগের ফলে পণ্যবাহী যানবাহন বন্দর থেকে বের হওয়ার অনুমতি দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সহজেই প্রয়োজনীয় শুল্ক, কর, ফি ও মাশুল পরিশোধের তথ্য যাচাই করতে পারবে।
ই-চালানে যুক্ত হয়েছে ‘আর নম্বর’ ও ‘সিপি নম্বর’
চট্টগ্রাম বন্দরের নতুন ই-চালান ব্যবস্থায় পেমেন্ট যাচাইয়ের জন্য দুটি নম্বর অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এগুলোর মাধ্যমে পৃথকভাবে কাস্টমস ও বন্দর কর্তৃপক্ষের পাওনা পরিশোধের তথ্য যাচাই করা যাবে।
১. আর নম্বর (R Number)
ই-চালানে যুক্ত ‘আর নম্বর’-এর মাধ্যমে কাস্টমসের শুল্ক ও কর পরিশোধের তথ্য যাচাই করা যাবে। ফলে আমদানি করা পণ্যের বিপরীতে প্রযোজ্য শুল্ক-কর পরিশোধের বিষয়টি নিশ্চিত করা সহজ হবে।
২. সিপি নম্বর (CP Number)
অন্যদিকে, ‘সিপি নম্বর’-এর মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত ফি ও মাশুল পরিশোধের তথ্য যাচাই করা যাবে। এর ফলে বন্দরের পাওনা পরিশোধসংক্রান্ত তথ্য নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া আরও কার্যকর হবে।
কীভাবে কাজ করবে নতুন ই-চালান ব্যবস্থা?
বন্দর থেকে পণ্য সরবরাহ এবং গেট দিয়ে পণ্যবাহী যানবাহন বের করার ক্ষেত্রে অনলাইন ই-চালান একটি গুরুত্বপূর্ণ চূড়ান্ত নথি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
নতুন ব্যবস্থায় ই-চালানের সঙ্গে যুক্ত দুটি নম্বর ব্যবহার করে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো কাস্টমস ও বন্দর কর্তৃপক্ষের পাওনা পরিশোধের তথ্য যাচাই করতে পারবে। এতে পণ্য খালাসের অনুমতি দেওয়ার আগে প্রয়োজনীয় পেমেন্ট নিশ্চিত করা আরও সহজ হবে।
এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো পেমেন্টসংক্রান্ত অনিয়ম ও জালিয়াতির ঝুঁকি কমানো এবং বন্দরের পণ্য সরবরাহ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করা।
আমদানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ?
চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক আমদানিকারক, পণ্যগ্রহীতা, শিপিং এজেন্ট এবং ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরোয়ার্ডিং (সিঅ্যান্ডএফ) এজেন্ট বন্দরের বিভিন্ন সেবা গ্রহণ করেন।
নতুন ই-চালান ব্যবস্থার ফলে এসব ব্যবহারকারীর জন্য পেমেন্টসংক্রান্ত তথ্য যাচাইয়ের প্রক্রিয়া আরও সহজ হতে পারে।
এর সম্ভাব্য সুবিধাগুলো হলো:
- পেমেন্ট যাচাইয়ে স্বচ্ছতা: শুল্ক, কর, ফি ও মাশুল পরিশোধের তথ্য যাচাই সহজ হবে।
- জালিয়াতি প্রতিরোধ: পেমেন্টসংক্রান্ত অনিয়ম শনাক্ত ও প্রতিরোধে সহায়তা করবে।
- নিরাপদ পণ্য খালাস: যানবাহন বের হওয়ার আগে প্রয়োজনীয় পাওনা পরিশোধ নিশ্চিত করা সহজ হবে।
- আধুনিক বন্দর ব্যবস্থাপনা: ডিজিটাল সেবার ব্যবহার বাড়িয়ে কার্যক্রম আরও কার্যকর করার সুযোগ তৈরি হবে।
তবে নতুন ব্যবস্থার ফলে পণ্য খালাসের সময় বা ব্যয় কতটা কমবে, সে বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে নির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান উল্লেখ করা হয়নি।
বন্দর ব্যবহারকারীদের প্রতি কর্তৃপক্ষের আহ্বান
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ আমদানিকারক, পণ্যগ্রহীতা, শিপিং এজেন্ট, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টসহ সংশ্লিষ্ট সব ব্যবহারকারীকে নতুন সুবিধাটি গ্রহণ করে সেবা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের জন্য নতুন পদ্ধতি সম্পর্কে অবগত থাকা এবং ই-চালানে প্রয়োজনীয় তথ্য সঠিকভাবে ব্যবহার করা গুরুত্বপূর্ণ। এতে পণ্য খালাসের প্রক্রিয়ায় পেমেন্ট যাচাই আরও সুশৃঙ্খল হতে পারে।
চট্টগ্রাম বন্দরের অনলাইন ই-চালানে ‘আর নম্বর’ ও ‘সিপি নম্বর’ যুক্ত করার উদ্যোগ পণ্য খালাসে পেমেন্ট যাচাইয়ের প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও নিরাপদ করার একটি পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে কাস্টমসের শুল্ক-কর এবং বন্দর কর্তৃপক্ষের ফি-মাশুল পরিশোধের তথ্য যাচাই সহজ হবে।
ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর মাধ্যমে বন্দরের সেবা কার্যক্রম আধুনিকায়ন এবং পেমেন্টসংক্রান্ত জালিয়াতির ঝুঁকি কমাতে এই উদ্যোগ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এর কার্যকারিতা কতটা বাড়বে, তা বাস্তব প্রয়োগের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা যাবে।





