বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা এবং সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র অনুসন্ধানের লক্ষ্যে মালদ্বীপ সফর করছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
মালদ্বীপের ৬১তম স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশ নিতে ২৫ জুলাই দেশটিতে পৌঁছান তিনি। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে তাঁর সম্মানে সন্ধ্যায় একটি বিশেষ চা চক্রের আয়োজন করেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ড. মোহাম্মদ মুইজ্জু।
মালদ্বীপে উষ্ণ অভ্যর্থনা
মালদ্বীপে পৌঁছানোর পর দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরুথিশাম আদাম এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ড. খলিলুর রহমানকে স্বাগত জানান।
মালদ্বীপ সরকারের বিশেষ অতিথি হিসেবে তিনি ২৫ থেকে ২৭ জুলাই পর্যন্ত দেশটি সফর করবেন এবং স্বাধীনতা দিবসের আনুষ্ঠানিক আয়োজনে অংশ নেবেন।
মালদ্বীপের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই সফরকে বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেছে। মন্ত্রণালয়ের মতে, এ সফর দুই দেশের মধ্যে আরও গভীর সম্পৃক্ততা তৈরি করবে এবং ভবিষ্যতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের ভিত্তি শক্তিশালী করবে।
প্রেসিডেন্ট মুইজ্জুর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ
সফরকালে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ড. মোহাম্মদ মুইজ্জুর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
এ ছাড়া মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরুথিশাম আদামের সঙ্গে তাঁর একটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে বাংলাদেশ–মালদ্বীপ অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করার বিভিন্ন উপায় নিয়ে আলোচনা হবে।
একই সঙ্গে বিদ্যমান সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো পর্যালোচনা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নতুন সুযোগ চিহ্নিত করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
আলোচনায় থাকবে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়
দুই দেশের প্রতিনিধিরা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে মতবিনিময় করবেন। পাশাপাশি আঞ্চলিক ও বহুপক্ষীয় ফোরামে বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে বাণিজ্য, কর্মসংস্থান, পর্যটন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিদ্যমান।
মালদ্বীপে কর্মরত উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বাংলাদেশি প্রবাসী দেশটির অর্থনৈতিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। ফলে শ্রমবাজার, প্রবাসী কল্যাণ এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিষয়গুলো দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নতুন সম্ভাবনা
পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি ড. খলিলুর রহমানের প্রথম সরকারি মালদ্বীপ সফর। তিনি ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলা থেকে কাতারের দোহা হয়ে মালদ্বীপে পৌঁছান।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে। পাশাপাশি বাণিজ্য, পর্যটন, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং বিনিয়োগসহ সম্ভাবনাময় বিভিন্ন খাতে নতুন সহযোগিতার সুযোগ সৃষ্টি হবে।
বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও কার্যকর ও বহুমাত্রিক অংশীদারত্বে রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে এ সফর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।





