নিজস্ব প্রতিবেদক :
তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা— বিকাশ দেওয়ান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ডিপিডিসি (সাবেক)।
এটি ২০২২ সালে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানীর (ডিপিডিসির) নির্বাহী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) গিয়াস উদ্দিন জোয়ার্দারের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জন ও স্বেচ্ছাচারীমূলক আচরণের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) জমা পড়া লিখিত অভিযোগের বিষয়ে তৎকালীন প্রতিষ্ঠান প্রধানের দায়িত্ব থাকা বিকাশ দেওয়ানে মন্তব্য।
কাকতালীয় হলেও সত্য নির্বাহী পরিচালক গিয়াস উদ্দিন জোয়ার্দারের পথেই হেঁটেছেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (সাবেক) বিকাশ দেওয়ান।
চলতি মাসের ১০ জানুয়ারি বিপুল কালো টাকার মালিক ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড’র (ডিপিডিসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী বিকাশ দেওয়ান দূর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) জমাপড়া অভিযোগ পত্রের বিষয় প্রাতিষ্ঠানিক কোন বক্তব্য না দিয়েই স্বপদ ছেড়েছেন।
অভিযোগ আছে,
প্রাতিষ্ঠানিক দূর্নীতি এবং অষ্ট্রেলিয়া পালিয়ে যেতে সহযোগিতাসহ দূর্নীতি দমন কমিশন(দুদক) এর অভিযোগের তদন্তের অগ্রগতি ঠেকাতে সাংবাদিকসহ তদন্তসংশ্লিষ্টদের ম্যানেজে ব্যস্ত বিকাশ দেওয়ান ।
দায়িত্বে থাকাকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিকাশ দেওয়ানের বিরুদ্ধে দূর্নীতি দমন কমিশনে(দুদক) জমা পড়া দুই পাতার অভিযোগ পত্রে প্রকল্প ব্যয়ে ঘষামাজা, ঘূষ বানিজ্য, ঠিকাদার নিয়োগ ও কাজ বন্টন, ভয়ভীতি প্রদর্শন, প্রজেক্ট দেখভালের দায়িত্বে লুকোচুরি, বিদেশি প্রতিষ্ঠান থেকে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ, অভিযুক্তদের প্রমোশন, নিয়োগ-বদলীসহ
অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জন ও স্বেচ্ছাচারীমূলক আচরণের অভিযোগ উল্লেখ্য যোগ্য।
মুঠোফোন বন্ধ থাকায় অভিযোগের বিষয়ে ব্যবস্থাপনা পরিচালক (সাবেক) বিকাশ দেওয়ানের মতামত জানার জন্য, রাঙ্গামাটির কলেজ গেইটের মন্ত্রী পাড়ায় অবস্থিত পৈত্রিক বাড়ি এবং ঢাকার বসুন্ধরায় অবস্থিত ঠিকানায় যোগাযোগ করেও কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অতঃপর তার মুঠোফোনে খুদে বার্তা
তবে গ্রামের বাড়ির আত্মীয়রা জানান, সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী দুই একদিনের মধ্যে তিনি অস্ট্রেলিয়াতে সন্তানদের কাছে চলে যাবেন।
দুদকে জমাপড়া লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডায় প্রায় ১৪শ কোটি টাকা পাচার করেছে ডিপিডিসির এমডি বিকাশ দেওয়ান’। এবং প্রোজেক্টের সমস্ত কাজ দেখভাল ও এমডিকে বিদেশিদের এজেন্ট বলে উল্লেখ করা হয় ‘।
সেইসাথে পিডিবি থেকে ডিপিডিসির এমডি হওয়ার পর থেকে বিদেশীদের সাথে বন্ধুত্ব এবং পিডিবির ইউসুফ নামক এক ব্যক্তির মাধ্যমে কাজ ভাগাভাগি করার কথা বলা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, বিদেশি এবং ঠিকাদারদের নিয়ে মদ পার্টির আয়োজনসহ দূর্নীতির সকল সেক্টরে তার পদচারণা রয়েছে।
অভিযোগ পত্রে সাড়ে ৬ লাখ প্রিপ্রেইড মিটারের কাজ পছন্দের ঠিকাদারকে পাইয়ে দেয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করা হয়েছে।
প্রজেক্ট পিডিদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে নিম্নমানের মিটার ক্রয় এবং গ্রাহক হয়রানীর বিষয়টিও তুলে ধরেছেন।
এছাড়াও ডিপিডিসির সুপারভাইজরি কন্ট্রোল এবং ডেটা অধিগ্রহণ (SCADA) প্রজেক্ট ছয়শত কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে এক হাজার কোটি টাকা করার অপতৎপরতা ও জিটুজি ও পিডিএসডি প্রজেক্টে অন্য কাউকে অংশগ্রহণ করতে না দেয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
ঘুষ বানিজ্যের মধ্যে পিডিএসডি প্রজেক্টের প্রায় ৫০ কোটি টাকার ক্যাবল চুরি এবং এই ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আড়াই কোটি টাকার বিনিময়ে ইঞ্জিনিয়ারের দায়িত্ব প্রধানসহ দূর্নীতি দমন কমিশনে(দুদক) জমা পড়া দুই পাতার অভিযোগ পত্রে প্রকৌশলী বিকাশ দেওয়ানের বিরুদ্ধে প্রকল্প ব্যয়ে ঘষামাজা, ঠিকাদার নিয়োগ ও কাজ বন্টন, ভয়ভীতি প্রদর্শন, প্রজেক্ট দেখভালের দায়িত্বে লুকোচুরি, বিদেশি প্রতিষ্ঠান থেকে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ, অভিযুক্তদের প্রমোশন, নিয়োগ-বদলী উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়াও ডিপিডিসি’র এই পদে নিয়োগ পাওয়ার আগে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড এর প্রধান প্রকৌশলী (প্লানিং অ্যান্ড ডিজাইন) হিসেবে দায়িত্বে
থাকাকালীন তার বিরুদ্ধে বিদেশ ভ্রমন সংক্রান্ত একটি অনিয়মের মামলার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
আনিস মুরাদ নামের ঐ ব্যক্তি অভিযোগের কপি বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগসহ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়েও জমা করেন।
সেইসাথে ডাকযোগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়েও অভিযোগটি পাঠানো হয়।
সূত্র বলছে, বর্তমানে অভিযোগটির সত্যতা নিয়ে কাজ করছে সংস্থাগুলো।
অভিযোগ পত্রের শেষ অংশ ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ‘জে’ ব্লকে বিকাশ দেওয়ানের আধুনিক নির্মাণশৈলী সম্পূর্ণ একটি আট তলা ভবনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
সেটির সত্যতা যাচাইয়ে দুই নম্বর সড়কের ১৬৩ নম্বর বাড়ির সন্ধানে গিয়ে কিছুটা অবাক হতে হয়। উল্লেখিত ১৬৩ নম্বর বাড়ির কোন অস্তিত্ব উক্ত সড়কে নাই।
পরবর্তীতে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার কর্পোরেট অফিসে যোগাযোগ করা হলেও একই তথ্য পাওয়া যায়।
গত দুইদিন চেষ্টা করেও আটতলা বিশাল বাড়িটির কোন অস্তিত্ব না পেয়ে অভিযোগের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়।
এমন সময় দুই নম্বর সড়ক থেকে ডিপিডিসির কয়েকটি গাড়ি বের হতে দেখে নিশ্চিত হই, বাড়ির অস্তিত্ব আছে।
অভিযোগে উল্লেখিত বাড়ির কথা বলা হয়েছে ১৬৩, কিন্তু বাস্তবে বাড়ির নম্বর হচ্ছে শুধু ৬৩টি।
পূর্বাচলের ৩’শ ফিট সড়ক থেকে বসুন্ধরা প্রবেশের পথেই মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা বাড়ির চাকচিক্যই জানান দেয় ; সদ্যনির্মিত ভবনটি লুকিয়ে রাখার প্রচেষ্টায় বাড়ির মালিক।
সিকিউরিটি গার্ড আর পর্যবেক্ষণ ক্যামেরায় সব কিছুই মনিটরিং হচ্ছে উপর থেকে। বহুচেষ্টা করেও বাড়ির নম্বর প্লটটি খোঁজে পাওয়া যায়নি। কারণ ভবনটির মালিক বিকাশ দেওয়ান দুদকে অভিযোগ পত্র জমা হতেই তার নামের ফলক অপসারণ করেছেন।
বাড়ির কেয়ারটেকার হানিফ মিয়ার সাথে কথা হয় প্রতিবেদকের, তৃতীয় তলার ফ্লাটে স্ত্রী নিয়ে বসবাস করেন এমডি স্যার। এক ফ্লোর উপরে বসবাস করেন ছোট ভাই ও তার পরিবার।
নাম প্রকাশে একটি সূত্র বলছেন, ৫ম তলার ফ্লাটের মালিক জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। ফ্লোরটি ডিপিডিসির সদ্য সাবেক এমডি বিকাশ দেওয়ান তাকে লিখে দিয়েছেন। প্রথম কয়েকমাস এনবিআরের ঐ কর্মকর্তা ভবনটিতে পরিবার নিয়ে বসবাস করেছেন । এখন পঞ্চম তলার ফ্লাটটি ফাঁকা আছে, পত্রিকায় বিকাশ দেওয়ানকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পরপরই তিনি বাড়িটি ছেড়ে চলে যান তিনি।
উইকিপিডিয়া বলছে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (সংক্ষেপে এনবিআর) বাংলাদেশ সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযুক্ত প্রতিষ্ঠান যার প্রধান দায়িত্ব শুল্ক-কর আরোপ করা ও তা আদায় করা। এছাড়া, শুল্ক নীতি প্রণয়নসহ চোরাচালাননিরোধী আইন ও বিধি প্রণয়ন বোর্ডের অন্যতম কাজ। এটি বাংলাদেশ সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সংযুক্ত প্রতিষ্ঠান।
অর্থাৎ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রধান দায়িত্ব হলো কাস্টমস, আয়কর ও মূল্য সংযোজন কর সংক্রান্ত বিধি-বিধান তৈরি এবং তার আলোকে যথাযথ কর-রাজস্ব আদায় করা। এ ছাড়াও চোরাচালান প্রতিরোধ, শুল্ক-কর সংক্রান্ত আর্ন্তজাতিক চুক্তি সম্পাদন ও সরকারের রাজস্ব নীতি সংক্রান্ত যেকোনো বিষয়ে প্রতিনিধিত্ব করা।









