Home আন্তর্জাতিক গাজা অভিযানে শিশু হত্যার দায় স্বীকার ইসরাইলের

গাজা অভিযানে শিশু হত্যার দায় স্বীকার ইসরাইলের

0
43

জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরের কাছে ৭ আগস্টের হামলার পিছনে ইসরাইল দায়ী ছিল ছিল। দেশটির সংবাদমাধ্যম হারেৎজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। তখন ইসরাইলের গাজা অভিযানে জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরের কাছে ৫ ফিলিস্তিনি শিশুকে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা।

বেশ কয়েকটি প্রতিরক্ষা সূত্র হারেৎজ পত্রিকাকে জানিয়েছে, ৭ আগস্টের হামলার বিষয়ে সেনাবাহিনীর তদন্তে ৫ জন শিশু নিহতের বিষয়ে নিশ্চয়তা পাওয়া গেছে। নিহত শিশুরা হলেন, জামিল নাজম আল-দ্বীন নাইজম (৪) জামিল ইহাব নাজিম (১৩), মোহাম্মদ নিজম (১৭) হামেদ নিজম (১৭) এবং নাজমি আবু কার্শ (১৫)। এরা সবাই উত্তর গাজার জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরের পাশে আল-ফালুজা কবরস্থানে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হন।

৭ থেকে ৮ আগস্ট অবরুদ্ধ ছিটমহলটিতে তিন দিনের ইসরাইলি হামলার দেশটির বেশ কয়েকজন সিনিয়র কর্মকর্তা হারেৎজকে জানান, এই মৃত্যু একটি ইসলামিক জিহাদ রকেটের কারণে ঘটেছে।

মঙ্গলবার (১৬ আগস্ট) হারেৎজ রিপোর্ট প্রকাশিত হওয়ার কয়েক ঘন্টা পরে নিহত শিশু নাজিমের পরিবার ইসরাইলকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে অভিযোগের মুখোমুখি করার আহ্বান জানান। তাদের একই পরিবারের চার শিশু নিহত হয়।

কয়েক ডজন লোক মানুষ ব্যানারে লিখে প্রতিবাদ জানায়। যেখানে লিখা ছিল, ‘আমাদের সন্তানদের শান্তি ও নিরাপত্তায় বেঁচে থাকার অধিকার আছে।’

হামলায় নিহত চার শিশুর বাবা ইহাব নাজিম সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে জানিয়েছেন, প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে সাক্ষ্য শুনে তারা নিশ্চিত শিশুদের মৃত্যুর জন্য ইসরাইল দায়ী।

তিনি বলেন, “আমাদের বাচ্চারা নিষ্পাপ এবং অল্পবয়সী ছিল এবং তারা আমাদের বাড়ির উল্টা দিকে কবরস্থানে তাদের দাদার কবর দেখতে গিয়েছিল। ঠান্ডা মাথায় তাদেরকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা সকল দলকে আমাদের পাশে দাঁড়ানোর এবং আন্তর্জাতিক আদালতে আমাদের শিশুদের জন্য সমর্থন করার আহ্বান জানাই।”

ইহাব নাজিম আরও বলেন, ‘ইসরাইলের স্বীকারোক্তি আমাদের কাছে নতুন কিছু নয়। আমাদের চার সন্তান এবং আমাদের প্রতিবেশীর ছেলে নিহত হওয়ার পর থেকেই এটি পরিষ্কার ছিল যে এটি একটি ইসরাইলি ক্ষেপণাস্ত্র ছিল।’

কবরস্থানে হামলার আগের দিন ঘটে যাওয়া একটি পৃথক ঘটনায়, জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরে বিস্ফোরণে শিশুসহ ৮ জন নিহত হয়। এ ঘটনার জন্য ইসরাইলি সামরিক বাহিনীকে দায়ী করা হয়।

ইসরাইলি সামরিক বাহিনী দাবি করে, তারা সেই হামলার সময় কোনো বিস্ফোরণ চালায় নি। রোববার (৭ আগস্ট) তিনদিনের যুদ্ধে ১৭ শিশুসহ ৪৯ জন ফিলিস্তিনির মৃত্যুর মধ্য দিয়ে ইসরাইল এবং ইসলামি জিহাদ গ্রুপ উভয়েই যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here