‘রান্নার সরঞ্জাম’ জব্দের নোটিশকে কেন্দ্র করে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) অপরাজিতা হলের আবাসিক ছাত্রীদের বিক্ষোভের মুখে হল কর্তৃপক্ষ অবশেষে তাদের দাবি মেনে নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। প্রায় চার ঘণ্টা বিক্ষোভের পর ছাত্রীদের সকল দাবি মেনে নেওয়া হয়। এরপর রাত ২টা ৮ মিনিটের দিকে শিক্ষার্থীরা হাদী চত্বর ছেড়ে হলে ফিরে যেতে শুরু করে।
মঙ্গলবার (১৬ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ছাত্রীরা প্রথমে হলের ভেতরের তালা ভেঙে বাইরে বের হয়ে আসেন। বিক্ষোভে তারা ১১ দফা দাবি ঘোষণা করেন। এ বিক্ষোভে অংশ নেন অপরাজিতা ও বঙ্গমাতা হলের অন্তত পাঁচ শতাধিক ছাত্রী। মধ্যরাতে ছাত্রীদের বিক্ষোভ-স্লোগানে উত্তাল হয়ে উঠে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। এরপর প্রাধ্যক্ষ ও প্রাধ্যক্ষ বডির সকল হল সদস্য রাত ২টার দিকে ১১ দফা দাবি সংবলিত নোটিশে স্বাক্ষর করেন। ১১ দফা দাবি পড়ে শোনান বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সালমা বেগম।সেই সঙ্গে সহকারী প্রাধ্যক্ষ মাহফুজা খাতুন অপরাজিতা হলের ছাত্রীদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন।
জানা যায়, বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে হলের প্রোভোস্ট, সহকারী প্রোভোস্ট ছাত্রীদের ধমক দেন ও সিট বাতিলের হুমকি দেন। এর পর রাইস কুকার, হিটার ও রান্নার সরঞ্জাম সরানোর নোটিশ দেয় হল কর্তৃপক্ষ। তখন থেকেই ছাত্রীরা বিক্ষোভ শুরু করেন।
ছাত্রীরা হলে ফিরে যাওয়ার পর সাংবাদিকদের ব্রিফ করে অপরাজিতা হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক রহিমা নুসরাত রিম্মি বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা আমাদের সন্তানের মতো। আমরা চাই না, তাদের কোনো কষ্ট হোক। তাদের সবগুলো দাবি আমরা মেনে নিয়েছি। তারা যে সমস্যাগুলোর কথা বলেছে, সেগুলোও আমরা সমাধান করছি এবং চেষ্টা অব্যাহত আছে।’
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, এ ধরনের সমস্যাগুলি অনেক দিন থেকেই হচ্ছে। তদের দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ আজকের এই বিক্ষোভ কর্মসূচি।










