হাফেজ নজরুল :
শোকে বিছানায় কাৎরাচ্ছে নিহত হাজেরার মা হনুফা বেগম।
বাবা মারা গেছেন অনেক আগে, ২ ভাই ৩ বোনের মধ্যে হাজেরা দ্বিতীয়, অভাবের সংসার, এর মধ্যে বাবা নেই, অনেক কষ্ট করে ২ ছেলে ৩ মেয়েকে নিয়ে জীবন সংগ্রাম করে একটি কূলে এসে কোন রকম বেচেঁ থেকে
যখন একটু স্বস্তির নিশ্বাস নেবার সময় এলো তখনই আকাশ ভেঙে মাথায় পড়ল অসহায় হনুফা বেগমের।
তখনো সূর্যের আলো পৃথিবীর বুকে আঁচড়ে পরেনি, চার দিকে ভোরের নিস্তব্ধতা, জীবন যুদ্ধে হারিয়ে না যাওয়া এক মায়ের চারদিকে অমানিশার ঘোর নেমে এলো মুহূর্তে ই, বাড়ী থেকে মেয়ের বাড়ীর দ্রুত্ব মাত্র ৩ কিলোমিটার, কিন্তু সময় আর রাস্তা যেন শেষ হচ্ছে না এ হতভাগা মায়ের।
বলছিলাম এক অভাগা হাজেরার কথা।
এ হতভাগা মেয়েটির নাম হাজেরা (২৩) মুরাদনগর উপজেলার বি,চাপিতলা গ্রামের মৃত সুন্দর আলীর মেয়ে ছিল সে, গত প্রায় ৯ বছর পূর্বে কামাল্লা গ্রামের আবদুল হাকিমের ছেলে নুরুল ইসলামের নিকটে পারিবারিক ভাবে বিয়ে হয় তার,হাজেরার পরিবারের বক্তব্য অনুযায়ী বিয়ের সময়ে মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে ধার দেনা ও সুদে টাকা এনে নগদ আড়াই লক্ষ টাকা দেন নুরুল ইসলাম কে।
এই টাকা দিয়ে সে একটি সি এন জি কিনে সংসার পরিচালনা করেন, নুরুল ইসলাম তার স্ত্রী কে যৌতুকের টাকার জন্য প্রায়ই মার ধর করে এমনকি স্ত্রীর গলায় ছুরি লাগিয়ে মেরে ফেলার চেষ্টা ও করে এবং গলায় ক্ষত হয়, চিকিৎসা করে সুস্থ করে হাজেরার মা, এই সমস্ত কারনে মেয়েটিকে আর স্বামীর বাড়ীতে দেওয়ার ইচছা ছিল না মায়ের । বিয়ের ২ বছরের মাথায় তাদের সংসারে হাসিবুল নামে একটি পুত্র সন্তান আসে, কিন্তু তার একটা ছেলে থাকার করনে পরিবারের সবাই তাকে বুঝিয়ে স্বামীর বাড়ীতে আবারো পাঠায়, নুরুল ইসলাম তার স্ত্রীর নিকটে আবারো ৫০ হাজার টাকা এবং একটি মোবাইল দাবী করে, গত ১৮/৩ /২০২৪ তারিখ বিকেলে স্বামীর বাড়ীতে যায় হাজেরা, ঐ রাতেই তার স্বামী ও অন্যন্য আসামী গন মিলে হাজেরার সঙে খারাপ আচরণ করে, এ আচরণে মানুষিক ভাবে ভেঙে পরে হাজেরা,মামলার বিবরণ অনুযায়ী ভোর রাতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় হাজেরা, মুরাদনগর থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
তার মা হনুফা বেগম বাদী হয়ে আত্মহত্যা প্ররোচনার অভিযোগে নিহতের স্বামী ঘাতক নুরুল ইসলামসহ ৪ জনকে আসামি করে মুরাদনগর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন, পুলিশ এর মধ্যে মামলার ২নং আসামী আছমা(৪০)৪নং আসামী আবুল হোসেন কে গ্রেফতার করে কোটে চালান করেন, গ্রেফতার কৃত আসামীরা জামিনে ছাড়া পেলেও প্রধান আসামী এখনো পলাতক, নিহতের ভাই প্রবাসী রমজান আলী বলেন আমার বোনকে এরা মেরে লাশ ঝুলিয়ে রাখছে, এটি হত্যাকান্ড, আমি আমার বোনের হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ সাজা চাই।
২০ দিনে ও প্রধান আসামী গ্রেফতার না হওয়ায় চরম হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
এ ব্যপারে মুরাদনগর থানার অফিসার ইনচার্জ প্রভাষ চন্দ্র ধর বলেন, আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে একটি মামলা হয়েছে, আমরা ২ জন আসামীকে গ্রেফতার করে কোটে চালান করেছি, প্রধান আসামী এখনো আটক হয়নি, আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। আশা করি দ্রুত আমরা তাকে গ্রেফতার করতে পারবো।
লাশের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসলে ই মৃত্যুর রহস্য উদঘাটন হবে।









