সংলাপ, সহনশীলতা, সংহতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের প্রতি বৈশ্বিক অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে বাংলাদেশের উত্থাপিত ‘শান্তি ও সহাবস্থানের সংস্কৃতি (Culture of Peace) বিষয়ক ঘোষণা ও কর্মসূচির বাস্তবায়নের অগ্রগতি’ শীর্ষক প্রস্তাব গ্রহণ করেছে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ। আজ ২৪ জুলাই সাধারণ পরিষদের এক বৈঠকে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে প্রস্তাবটি গৃহীত হয়।
প্রস্তাবটি উপস্থাপনকালে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী বলেন, শান্তিপূর্ণ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সহনশীল সমাজ গড়ে তুলতে অব্যাহত সংলাপ, পারস্পরিক বোঝাপড়া, বৈচিত্র্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ এবং জাতিসংঘ সনদের নীতিমালার প্রতি দৃঢ় অঙ্গীকার অপরিহার্য।তিনি প্রস্তাবটি নিয়ে গঠনমূলক সম্পৃক্ততা ও ব্যাপক সমর্থনের জন্য সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বিভাজনের পরিবর্তে সংলাপ, সংঘাতের পরিবর্তে সহযোগিতা এবং অসহিষ্ণুতার পরিবর্তে পারস্পরিক বোঝাপড়াকে এগিয়ে নিতে সম্মিলিত প্রচেষ্টা জোরদারের আহ্বান জানান।
বাংলাদেশের উদ্যোগে ১৯৯৯ সালে প্রথম গৃহীত এ প্রস্তাবটি গত প্রায় আড়াই দশক ধরে জাতিসংঘে ‘শান্তি ও সহাবস্থানের সংস্কৃতি’ এজেন্ডা এগিয়ে নেওয়ার অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে কাজ করে আসছে। বৈচিত্র্যের প্রতি শ্রদ্ধা, সহনশীলতা, সংহতি ও অহিংসার মূল্যবোধকে সমুন্নত রাখার পাশাপাশি এটি সংঘাত প্রতিরোধ, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান
বাংলাদেশের উত্থাপিত ‘শান্তি ও সহাবস্থানের সংস্কৃতি’ বিষয়ক প্রস্তাব গ্রহণ করল জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ
জনগণের ভোগান্তি কমাতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে: বাণিজ্যমন্ত্রী
বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। উন্নয়ন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন, যানজট নিরসন এবং নাগরিক সেবা উন্নত করার মাধ্যমে জনদুর্ভোগ কমানোই সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার বলে জানান তিনি।
শনিবার, ২৫ জুলাই সিলেট সার্কিট হাউসে আয়োজিত এক সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সিলেট নগরীর যানজট কমাতে আম্বরখানা থেকে লাক্কাতুরা পর্যন্ত নতুন সড়ক নির্মাণের একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, মানুষের দুর্ভোগ কমাতে প্রধান সড়কগুলোর নির্মাণকাজ এবং চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলো নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী দ্রুত শেষ করতে হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও সংস্থাগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, সিলেট সিটি করপোরেশনের ৪২টি ওয়ার্ডের সার্বিক উন্নয়নে একাধিক বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এসব প্রকল্প সম্পন্ন হলে সিলেট আরও আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও সুশৃঙ্খল নগরীতে পরিণত হবে। পাশাপাশি জলাবদ্ধতা ও সড়ক অবকাঠামোর প্রধান সমস্যাগুলোরও সমাধান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বর্ষাকালে বন্যা ও জলাবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত খাল খনন এবং রক্ষণাবেক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। পানির উৎস থেকে নদী পর্যন্ত প্রাকৃতিক প্রবাহ অক্ষুণ্ন রেখে সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা গেলে জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান সম্ভব বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সিলেটের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে সিলেট-ফেঞ্চুগঞ্জ-মৌলভীবাজার সড়ক আরও প্রশস্ত করার পরিকল্পনার কথাও জানান মন্ত্রী। একই সঙ্গে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে লাক্কাতুরা এবং লাক্কাতুরা থেকে টিবি গেট পর্যন্ত বিকল্প সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
সভায় স্থানীয় প্রশাসন, সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ছবি: সংগৃহীত
সেমিকন্ডাক্টর শিল্পই হতে পারে বাংলাদেশের নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনাময় খাত: প্রধানমন্ত্রী
তৈরি পোশাকশিল্পের পর সেমিকন্ডাক্টর খাত বাংলাদেশের অর্থনীতির নতুন সম্ভাবনাময় চালিকাশক্তি হয়ে উঠতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে সরকার ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টিসহ সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু করেছে বলে জানান তিনি।
শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬ সকালে রাজধানীর নভোথিয়েটারে দুই দিনব্যাপী ‘ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম অ্যান্ড বিইএআর সামিট ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বাংলাদেশকে বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর ও ডিপ-টেক উদ্ভাবনের একটি কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার একটি স্বনির্ভর, সমৃদ্ধ ও প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায়। চতুর্থ ও পঞ্চম শিল্পবিপ্লবের যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিকস, ডেটা সেন্টার, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, চিকিৎসা সরঞ্জাম, মোবাইল ফোন এবং মহাকাশ প্রযুক্তিসহ প্রায় প্রতিটি আধুনিক খাতে চিপ বা সেমিকন্ডাক্টর অপরিহার্য।
বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর বাজারের বিশাল সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এ বাজারের আকার প্রায় এক ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছানোর পথে রয়েছে। বাংলাদেশের দক্ষ তরুণ, প্রযুক্তিবিদ, উদ্যোক্তা এবং প্রবাসী বিশেষজ্ঞদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ২০৩০ সালের মধ্যে এ খাতের নির্ধারিত রপ্তানি আয়ের লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন।
সেমিকন্ডাক্টর শিল্পকে সরকার জাতীয় অগ্রাধিকার খাত হিসেবে বিবেচনা করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ শিল্পের বিকাশ কোনো একটি মন্ত্রণালয় বা প্রতিষ্ঠানের একক দায়িত্ব নয়। এটি একটি জাতীয় মিশন। সরকার, বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণাপ্রতিষ্ঠান, শিল্পমালিক, উদ্যোক্তা এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত বাংলাদেশি প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের একযোগে কাজ করতে হবে।
বাংলাদেশে ইতোমধ্যে সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন, ভেরিফিকেশন, এমবেডেড সিস্টেম, পাওয়ার ইলেকট্রনিকস এবং অ্যাডভান্সড প্যাকেজিংয়ের মতো ক্ষেত্রে কাজ শুরু হয়েছে। কয়েকটি বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক বাজারেও কার্যক্রম সম্প্রসারণ করেছে বলে সম্মেলনে জানানো হয়।
এ খাতের বিকাশে সরকারের নীতিগত সহায়তার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চলতি বাজেটে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর থেকে কর ও শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে। পাশাপাশি সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন সেবার রপ্তানি আয়ে নগদ প্রণোদনা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে করমুক্ত বন্ডেড সুবিধা, বিশেষায়িত অবকাঠামো এবং আধুনিক প্রযুক্তি পার্ক গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। বিদ্যমান হাইটেক পার্কগুলো আধুনিকায়নের পাশাপাশি নতুন একটি বায়োটেক পার্ক প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।
আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা ও দক্ষ জনবলের ঘাটতিকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে স্বীকার করলেও প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মেধাবী তরুণ, উদ্ভাবনী ক্ষমতা এবং এগিয়ে যাওয়ার দৃঢ় সংকল্প এ লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নতুন অংশীদারত্ব, গবেষণা কার্যক্রম এবং বিনিয়োগের সুযোগ তৈরির মাধ্যমে এ সম্মেলন দেশের প্রযুক্তি খাতকে আরও এগিয়ে নেবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
‘বৈশ্বিক অংশীদারত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশের সেমিকন্ডাক্টর ভবিষ্যৎ নির্মাণ’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত সম্মেলনটি যৌথভাবে আয়োজন করেছে বাংলাদেশ সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং সিলিকন রিভার বাংলাদেশ। সম্মেলনের পাশাপাশি আয়োজিত ইনোভেশন এক্সপোতে শিক্ষার্থী ও স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের সেমিকন্ডাক্টর, এআই, রোবোটিকস, স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি এবং অন্যান্য ডিপ-টেক উদ্ভাবন প্রদর্শন করা হচ্ছে।
ছবি: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়/বাসস
যুক্তরাষ্ট্রে সর্বনিম্ন ১০ শতাংশ শুল্কস্তরে বাংলাদেশ
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন বাণিজ্যিক শুল্কব্যবস্থায় বাংলাদেশকে সর্বনিম্ন ১০ শতাংশ শুল্কস্তরে রাখা হয়েছে। চীন, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডসহ কয়েকটি প্রধান প্রতিযোগী দেশের জন্য ১২ দশমিক ৫ শতাংশ হার নির্ধারণ করায় মার্কিন বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও অন্যান্য রপ্তানি পণ্য তুলনামূলক সুবিধা পেতে পারে।
মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর—ইউএসটিআরের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশসহ ১৭টি অর্থনীতির পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ সেকশন ৩০১ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এই তালিকায় ভারত, পাকিস্তান, যুক্তরাজ্য, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়াও রয়েছে। অন্যান্য অনেক অর্থনীতির জন্য শুল্কহার নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ।
নতুন শুল্কহার শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬ যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময় রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে কার্যকর হয়েছে। ইউএসটিআর জানিয়েছে, জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য আমদানি ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আইন ও কার্যকর ব্যবস্থা পর্যাপ্ত নয়—এমন তদন্তের ভিত্তিতে ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের সেকশন ৩০১-এর আওতায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তবে ১০ শতাংশ হারকে পুরোপুরি ‘শুল্কছাড়’ বলা যাবে না। এটি বাংলাদেশের পণ্যের ওপর আরোপিত নতুন সেকশন ৩০১ শুল্ক, যা পণ্যভেদে বিদ্যমান মোস্ট ফেভার্ড নেশন—এমএফএন শুল্কের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। বাংলাদেশের সুবিধাটি মূলত প্রতিযোগী কয়েকটি দেশের তুলনায় কম অতিরিক্ত শুল্কহার পাওয়ার কারণে।
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের জন্য আরও একটি বিশেষ সুযোগ রাখা হয়েছে। ইউএসটিআর বাংলাদেশ, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার জন্য প্রাথমিকভাবে তিন বছর মেয়াদি ট্যারিফ-রেট কোটা—টিআরকিউ চালুর পরিকল্পনা করেছে। এর আওতায় মার্কিন তুলা ও টেক্সটাইল উপকরণ ব্যবহার করে তৈরি নির্দিষ্ট পরিমাণ পোশাক সেকশন ৩০১-এর অতিরিক্ত শুল্ক ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবে।
তবে টিআরকিউ ব্যবস্থা এখনো কার্যকর হয়নি। এটি বাস্তবায়নের বিস্তারিত পদ্ধতি, পণ্যের তালিকা, কোটার পরিমাণ এবং কার্যকর হওয়ার তারিখ পরবর্তী সময়ে ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশ করবে ইউএসটিআর। ব্যবস্থা চালুর আগ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশি টেক্সটাইল ও পোশাকপণ্যের ওপর ১০ শতাংশ সেকশন ৩০১ শুল্ক প্রযোজ্য থাকবে।
সরকার আশা করছে, তুলনামূলক কম শুল্কহার এবং ভবিষ্যৎ টিআরকিউ সুবিধা কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রতিযোগিতা শক্তিশালী হবে। বিশেষ করে মার্কিন তুলা ও কাঁচামাল ব্যবহারকারী পোশাক রপ্তানিকারকেরা বাড়তি সুবিধা পেতে পারেন। তবে ব্যবসায়ীদের মতে, প্রকৃত সুবিধা নির্ভর করবে মোট কার্যকর শুল্ক, কোটার পরিমাণ, কাঁচামালের ব্যয় এবং বাস্তবায়নবিধির ওপর।
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে কাতারের আমিরকে প্রধানমন্ত্রীর চিঠি
বাংলাদেশে কাতারি বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে কাতারের আমিরের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উপসাগরীয় দেশটির সঙ্গে অর্থনৈতিক ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ হিসেবে এ চিঠি পাঠানো হয়েছে।
শুক্রবার, ২৪ জুলাই ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় কাতারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সুলতান বিন সাদ আল-মুরাইখির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। বৈঠকের সময় তিনি কাতারের আমিরের উদ্দেশে লেখা প্রধানমন্ত্রীর চিঠিটি হস্তান্তর করেন।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা চুক্তির—Treaty of Amity and Cooperation (TAC)—৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানের ফাঁকে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশ ও কাতারের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা।
বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণসহ দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় হয়। কাতারের সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশে নতুন সুযোগ সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব জোরদার করাই চিঠিটির মূল লক্ষ্য বলে প্রকাশিত তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে প্রধানমন্ত্রীর চিঠিতে কোন কোন খাতে বিনিয়োগের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে কিংবা সম্ভাব্য বিনিয়োগের পরিমাণ কত—প্রকাশিত সরকারি বিবরণে সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ম্যানিলায় টিএসির বার্ষিকী অনুষ্ঠান ঘিরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর চলমান কূটনৈতিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবেই কাতারের প্রতিনিধির সঙ্গে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
ছবি: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন: স্পিকার
শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬ বিকেলে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে তিনি স্বাক্ষরিত পদত্যাগপত্র পাঠান। পরে সংবাদ সম্মেলনে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন স্পিকার।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা থাকলেও তিনি সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যগত কারণেই পদত্যাগ করেছেন। তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতির সুস্বাস্থ্য ও মঙ্গল কামনা করেন।
পদত্যাগপত্রে মো. সাহাবুদ্দিন তাঁর শারীরিক ও মানসিক অসামর্থ্যের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত জটিলতায় ভুগছেন। সম্প্রতি তাঁর শরীরে ‘অটোনমিক নিউরোপ্যাথি’ শনাক্ত হয়েছে, যার কারণে তিনি মাঝেমধ্যে অল্প সময়ের জন্য অচেতন হয়ে পড়েন।
মো. সাহাবুদ্দিন তাঁর পদত্যাগপত্রে দাবি করেন, দায়িত্ব পালনকালে তাঁর দৃঢ় ও ইতিবাচক ভূমিকার কারণে দেশে কোনো সাংবিধানিক বিপর্যয় ঘটেনি। বর্তমান শারীরিক অবস্থায় রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা সম্ভব নয় বলে তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
স্পিকার জানান, বাংলাদেশের সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুসারে রাষ্ট্রপতি স্পিকারের উদ্দেশে লিখিত ও স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে পদত্যাগ করতে পারেন। পদত্যাগপত্র গ্রহণের পর সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে।
মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। নির্ধারিত পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই প্রায় তিন বছর তিন মাস দায়িত্ব পালনের পর তিনি পদত্যাগ করলেন।
ছবি: সংগৃহীত
সৌদির সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তির পরদিনই ট্রাম্পের নতুন শর্ত
সৌদি আরবের সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি ঘোষণার মাত্র একদিন পর নতুন শর্ত আরোপ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করে সৌদি আরব ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে’ যোগ দিলেই কেবল চুক্তিটি কার্যকর হবে।
ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, প্রস্তাবিত পারমাণবিক কর্মসূচিটি শুধু শান্তিপূর্ণ ও বেসামরিক কাজে ব্যবহারের জন্য। এতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির উপযোগী উপাদান সমৃদ্ধকরণের সুযোগ থাকবে না বলেও দাবি করেন তিনি।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট এবং সৌদি জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুল আজিজ বিন সালমান সৌদি আরবে বাণিজ্যিক পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে সহযোগিতার একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। প্রস্তাবিত চুক্তিটি কার্যকর হওয়ার আগে মার্কিন কংগ্রেসের পর্যালোচনা ও অনুমোদনের প্রয়োজন হবে।
তবে প্রাথমিক চুক্তি ঘোষণার সময় সৌদি আরবের আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দেওয়ার শর্তটির কথা উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ট্রাম্পের নতুন ঘোষণার পর চুক্তিটির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। সৌদি সরকারের পক্ষ থেকেও নতুন শর্তের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের মাধ্যমে কয়েকটি আরব দেশ ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, মরক্কো ও সুদান ইতোমধ্যে এ উদ্যোগে যুক্ত হয়েছে।
সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য গ্রহণযোগ্য ও সুস্পষ্ট পথনকশা ছাড়া ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করবে না। ট্রাম্পের নতুন শর্তের কারণে পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি এবং সৌদি–ইসরায়েল সম্পর্ক—দুটি বিষয়ই এখন নতুন কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
ছবি: সংগৃহীত

























