Home Blog

বাংলাদেশের উত্থাপিত ‘শান্তি ও সহাবস্থানের সংস্কৃতি’ বিষয়ক প্রস্তাব গ্রহণ করল জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ

0

সংলাপ, সহনশীলতা, সংহতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের প্রতি বৈশ্বিক অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে বাংলাদেশের উত্থাপিত ‘শান্তি ও সহাবস্থানের সংস্কৃতি (Culture of Peace) বিষয়ক ঘোষণা ও কর্মসূচির বাস্তবায়নের অগ্রগতি’ শীর্ষক প্রস্তাব গ্রহণ করেছে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ। আজ ২৪ জুলাই সাধারণ পরিষদের এক বৈঠকে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে প্রস্তাবটি গৃহীত হয়।
প্রস্তাবটি উপস্থাপনকালে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী বলেন, শান্তিপূর্ণ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সহনশীল সমাজ গড়ে তুলতে অব্যাহত সংলাপ, পারস্পরিক বোঝাপড়া, বৈচিত্র্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ এবং জাতিসংঘ সনদের নীতিমালার প্রতি দৃঢ় অঙ্গীকার অপরিহার্য।তিনি প্রস্তাবটি নিয়ে গঠনমূলক সম্পৃক্ততা ও ব্যাপক সমর্থনের জন্য সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বিভাজনের পরিবর্তে সংলাপ, সংঘাতের পরিবর্তে সহযোগিতা এবং অসহিষ্ণুতার পরিবর্তে পারস্পরিক বোঝাপড়াকে এগিয়ে নিতে সম্মিলিত প্রচেষ্টা জোরদারের আহ্বান জানান।
বাংলাদেশের উদ্যোগে ১৯৯৯ সালে প্রথম গৃহীত এ প্রস্তাবটি গত প্রায় আড়াই দশক ধরে জাতিসংঘে ‘শান্তি ও সহাবস্থানের সংস্কৃতি’ এজেন্ডা এগিয়ে নেওয়ার অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে কাজ করে আসছে। বৈচিত্র্যের প্রতি শ্রদ্ধা, সহনশীলতা, সংহতি ও অহিংসার মূল্যবোধকে সমুন্নত রাখার পাশাপাশি এটি সংঘাত প্রতিরোধ, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান

বাংলাদেশ–মালদ্বীপ সম্পর্ক জোরদারে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সরকারি সফর

0

বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা এবং সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র অনুসন্ধানের লক্ষ্যে মালদ্বীপ সফর করছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।

মালদ্বীপের ৬১তম স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশ নিতে ২৫ জুলাই দেশটিতে পৌঁছান তিনি। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে তাঁর সম্মানে সন্ধ্যায় একটি বিশেষ চা চক্রের আয়োজন করেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ড. মোহাম্মদ মুইজ্জু।

মালদ্বীপে উষ্ণ অভ্যর্থনা

মালদ্বীপে পৌঁছানোর পর দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরুথিশাম আদাম এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ড. খলিলুর রহমানকে স্বাগত জানান।

মালদ্বীপ সরকারের বিশেষ অতিথি হিসেবে তিনি ২৫ থেকে ২৭ জুলাই পর্যন্ত দেশটি সফর করবেন এবং স্বাধীনতা দিবসের আনুষ্ঠানিক আয়োজনে অংশ নেবেন।

মালদ্বীপের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই সফরকে বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেছে। মন্ত্রণালয়ের মতে, এ সফর দুই দেশের মধ্যে আরও গভীর সম্পৃক্ততা তৈরি করবে এবং ভবিষ্যতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের ভিত্তি শক্তিশালী করবে।

প্রেসিডেন্ট মুইজ্জুর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ

সফরকালে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ড. মোহাম্মদ মুইজ্জুর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

এ ছাড়া মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরুথিশাম আদামের সঙ্গে তাঁর একটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে বাংলাদেশ–মালদ্বীপ অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করার বিভিন্ন উপায় নিয়ে আলোচনা হবে।

একই সঙ্গে বিদ্যমান সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো পর্যালোচনা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নতুন সুযোগ চিহ্নিত করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

আলোচনায় থাকবে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়

দুই দেশের প্রতিনিধিরা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে মতবিনিময় করবেন। পাশাপাশি আঞ্চলিক ও বহুপক্ষীয় ফোরামে বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার কথা রয়েছে।

বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে বাণিজ্য, কর্মসংস্থান, পর্যটন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিদ্যমান।

মালদ্বীপে কর্মরত উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বাংলাদেশি প্রবাসী দেশটির অর্থনৈতিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। ফলে শ্রমবাজার, প্রবাসী কল্যাণ এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিষয়গুলো দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নতুন সম্ভাবনা

পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি ড. খলিলুর রহমানের প্রথম সরকারি মালদ্বীপ সফর। তিনি ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলা থেকে কাতারের দোহা হয়ে মালদ্বীপে পৌঁছান।

সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে। পাশাপাশি বাণিজ্য, পর্যটন, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং বিনিয়োগসহ সম্ভাবনাময় বিভিন্ন খাতে নতুন সহযোগিতার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও কার্যকর ও বহুমাত্রিক অংশীদারত্বে রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে এ সফর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

জনগণের ভোগান্তি কমাতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে: বাণিজ্যমন্ত্রী

0

বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। উন্নয়ন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন, যানজট নিরসন এবং নাগরিক সেবা উন্নত করার মাধ্যমে জনদুর্ভোগ কমানোই সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার বলে জানান তিনি।

শনিবার, ২৫ জুলাই সিলেট সার্কিট হাউসে আয়োজিত এক সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সিলেট নগরীর যানজট কমাতে আম্বরখানা থেকে লাক্কাতুরা পর্যন্ত নতুন সড়ক নির্মাণের একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, মানুষের দুর্ভোগ কমাতে প্রধান সড়কগুলোর নির্মাণকাজ এবং চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলো নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী দ্রুত শেষ করতে হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও সংস্থাগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, সিলেট সিটি করপোরেশনের ৪২টি ওয়ার্ডের সার্বিক উন্নয়নে একাধিক বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এসব প্রকল্প সম্পন্ন হলে সিলেট আরও আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও সুশৃঙ্খল নগরীতে পরিণত হবে। পাশাপাশি জলাবদ্ধতা ও সড়ক অবকাঠামোর প্রধান সমস্যাগুলোরও সমাধান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বর্ষাকালে বন্যা ও জলাবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত খাল খনন এবং রক্ষণাবেক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। পানির উৎস থেকে নদী পর্যন্ত প্রাকৃতিক প্রবাহ অক্ষুণ্ন রেখে সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা গেলে জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান সম্ভব বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সিলেটের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে সিলেট-ফেঞ্চুগঞ্জ-মৌলভীবাজার সড়ক আরও প্রশস্ত করার পরিকল্পনার কথাও জানান মন্ত্রী। একই সঙ্গে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে লাক্কাতুরা এবং লাক্কাতুরা থেকে টিবি গেট পর্যন্ত বিকল্প সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

সভায় স্থানীয় প্রশাসন, সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ছবি: সংগৃহীত

সেমিকন্ডাক্টর শিল্পই হতে পারে বাংলাদেশের নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনাময় খাত: প্রধানমন্ত্রী

0

তৈরি পোশাকশিল্পের পর সেমিকন্ডাক্টর খাত বাংলাদেশের অর্থনীতির নতুন সম্ভাবনাময় চালিকাশক্তি হয়ে উঠতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে সরকার ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টিসহ সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু করেছে বলে জানান তিনি।

শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬ সকালে রাজধানীর নভোথিয়েটারে দুই দিনব্যাপী ‘ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম অ্যান্ড বিইএআর সামিট ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বাংলাদেশকে বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর ও ডিপ-টেক উদ্ভাবনের একটি কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার একটি স্বনির্ভর, সমৃদ্ধ ও প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায়। চতুর্থ ও পঞ্চম শিল্পবিপ্লবের যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিকস, ডেটা সেন্টার, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, চিকিৎসা সরঞ্জাম, মোবাইল ফোন এবং মহাকাশ প্রযুক্তিসহ প্রায় প্রতিটি আধুনিক খাতে চিপ বা সেমিকন্ডাক্টর অপরিহার্য।

বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর বাজারের বিশাল সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এ বাজারের আকার প্রায় এক ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছানোর পথে রয়েছে। বাংলাদেশের দক্ষ তরুণ, প্রযুক্তিবিদ, উদ্যোক্তা এবং প্রবাসী বিশেষজ্ঞদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ২০৩০ সালের মধ্যে এ খাতের নির্ধারিত রপ্তানি আয়ের লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন।

সেমিকন্ডাক্টর শিল্পকে সরকার জাতীয় অগ্রাধিকার খাত হিসেবে বিবেচনা করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ শিল্পের বিকাশ কোনো একটি মন্ত্রণালয় বা প্রতিষ্ঠানের একক দায়িত্ব নয়। এটি একটি জাতীয় মিশন। সরকার, বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণাপ্রতিষ্ঠান, শিল্পমালিক, উদ্যোক্তা এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত বাংলাদেশি প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের একযোগে কাজ করতে হবে।

বাংলাদেশে ইতোমধ্যে সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন, ভেরিফিকেশন, এমবেডেড সিস্টেম, পাওয়ার ইলেকট্রনিকস এবং অ্যাডভান্সড প্যাকেজিংয়ের মতো ক্ষেত্রে কাজ শুরু হয়েছে। কয়েকটি বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক বাজারেও কার্যক্রম সম্প্রসারণ করেছে বলে সম্মেলনে জানানো হয়।

এ খাতের বিকাশে সরকারের নীতিগত সহায়তার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চলতি বাজেটে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর থেকে কর ও শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে। পাশাপাশি সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন সেবার রপ্তানি আয়ে নগদ প্রণোদনা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে করমুক্ত বন্ডেড সুবিধা, বিশেষায়িত অবকাঠামো এবং আধুনিক প্রযুক্তি পার্ক গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। বিদ্যমান হাইটেক পার্কগুলো আধুনিকায়নের পাশাপাশি নতুন একটি বায়োটেক পার্ক প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা ও দক্ষ জনবলের ঘাটতিকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে স্বীকার করলেও প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মেধাবী তরুণ, উদ্ভাবনী ক্ষমতা এবং এগিয়ে যাওয়ার দৃঢ় সংকল্প এ লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নতুন অংশীদারত্ব, গবেষণা কার্যক্রম এবং বিনিয়োগের সুযোগ তৈরির মাধ্যমে এ সম্মেলন দেশের প্রযুক্তি খাতকে আরও এগিয়ে নেবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

‘বৈশ্বিক অংশীদারত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশের সেমিকন্ডাক্টর ভবিষ্যৎ নির্মাণ’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত সম্মেলনটি যৌথভাবে আয়োজন করেছে বাংলাদেশ সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং সিলিকন রিভার বাংলাদেশ। সম্মেলনের পাশাপাশি আয়োজিত ইনোভেশন এক্সপোতে শিক্ষার্থী ও স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের সেমিকন্ডাক্টর, এআই, রোবোটিকস, স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি এবং অন্যান্য ডিপ-টেক উদ্ভাবন প্রদর্শন করা হচ্ছে।

ছবি: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়/বাসস

জোরপূর্বক শ্রম ইস্যুতে নতুন মার্কিন শুল্ক, বাংলাদেশি পণ্যে মোট কার্যকর হার অন্তত ২৫ শতাংশ

0

জোরপূর্বক শ্রম প্রতিরোধে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর নতুন করে ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক কার্যকর করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের সেকশন ৩০১-এর আওতায় আরোপিত এ শুল্ক যুক্ত হওয়ার পর মার্কিন বাজারে বাংলাদেশি রপ্তানি পণ্যের মোট কার্যকর শুল্কহার অন্তত ২৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

বাংলাদেশি পণ্যের ওপর আগে গড়ে প্রায় ১৫ থেকে ১৬ শতাংশ নিয়মিত শুল্ক প্রযোজ্য ছিল। নতুন ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক যোগ হওয়ায় মোট কার্যকর হার প্রায় ২৫ থেকে ২৬ শতাংশ হচ্ছে। তবে রপ্তানিকারকেরা বলছেন, তাৎক্ষণিকভাবে বাংলাদেশের শুল্ক পরিস্থিতিতে বড় কোনো পরিবর্তন হয়নি। কারণ সেকশন ১২২-এর আওতায় আগে কার্যকর থাকা ১০ শতাংশ অস্থায়ী শুল্কের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর একই হারে সেকশন ৩০১-এর শুল্ক কার্যকর করা হয়েছে।

অর্থাৎ অতিরিক্ত শুল্কের পরিমাণ আপাতত ১০ শতাংশই থাকছে; পরিবর্তন হয়েছে মূলত এর আইনি ভিত্তি।

সেকশন ১২২-এর পরিবর্তে সেকশন ৩০১

দ্বিতীয় মেয়াদে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে—এমন দেশগুলোর পণ্যে উচ্চ হারে শুল্ক আরোপের উদ্যোগ নেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির আওতায় ২০২৫ সালের ২ এপ্রিল বিশ্বের ৫৭টি দেশের ওপর বিভিন্ন হারে পাল্টা বা রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ ঘোষণা করা হয়।

প্রথমে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছিল। পরে তা পর্যায়ক্রমে ৩৫ ও ২০ শতাংশে নামানো হয়। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ৯ ফেব্রুয়ারি স্বাক্ষরিত Agreement on Reciprocal Trade—ART-এর পর শুল্কহার ১৯ শতাংশ নির্ধারিত হয়েছিল। তবে ব্যবসায়ীদের ভাষ্য অনুযায়ী, পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ওই শুল্কব্যবস্থা বাতিল করেন।

এর কয়েক দিনের মধ্যে ট্রেড অ্যাক্টের সেকশন ১২২-এর আওতায় ১০ শতাংশ অস্থায়ী শুল্ক আরোপ করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। মার্কিন আইন অনুযায়ী, এ ধরনের শুল্ক সর্বোচ্চ ১৫০ দিন কার্যকর রাখা যায়। সেই মেয়াদ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এখন সেকশন ৩০১-এর আওতায় নতুন ১০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হলো।

জোরপূর্বক শ্রম নিয়ে ইউএসটিআরের তদন্ত

বাংলাদেশসহ ৬০টি দেশ জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি প্রতিরোধে যথেষ্ট কার্যকর ব্যবস্থা নিয়েছে কি না, তা যাচাই করতে গত ১২ মার্চ তদন্ত শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয়—ইউএসটিআর।

জনমত, প্রকাশ্য শুনানি, সংশ্লিষ্ট সরকারগুলোর বক্তব্য এবং উপদেষ্টা কমিটির সুপারিশ পর্যালোচনা করে ২ জুন তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, সংশ্লিষ্ট দেশগুলো জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি নিষিদ্ধ ও প্রতিরোধে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে।

এর ভিত্তিতে সেকশন ৩০১-এর আওতায় নতুন শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নেয় ইউএসটিআর। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত নোটিস অনুযায়ী, ওয়াশিংটন সময় ২৪ জুলাই রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে নতুন শুল্ক কার্যকর হয়েছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে ইতোমধ্যে রওনা হওয়া পণ্য ২৮ জুলাই দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিট পর্যন্ত নতুন শুল্ক থেকে অব্যাহতি পাবে।

প্রায় সব রপ্তানি পণ্যে শুল্ক প্রযোজ্য

নতুন শুল্ক যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হওয়া বাংলাদেশের প্রায় ৯৯ দশমিক ৪ শতাংশ পণ্যের ওপর প্রযোজ্য হবে। তবে কয়েকটি পণ্য এ অতিরিক্ত শুল্কের বাইরে রাখা হয়েছে।

জ্বালানি তেল ও গ্যাস, সার, কয়েক ধরনের খাদ্যপণ্য এবং সেকশন ২৩২-এর আওতায় আগে থেকেই শুল্ক আরোপিত গাড়ি, ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও তামাসহ কিছু পণ্যে নতুন সেকশন ৩০১ শুল্ক প্রযোজ্য হবে না। যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা বাণিজ্য চুক্তির শর্ত পূরণকারী পণ্যও এর আওতার বাইরে থাকবে।

প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান অক্ষুণ্ন থাকার দাবি সরকারের

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দাবি, নতুন শুল্ক কার্যকর হলেও বাংলাদেশের বাস্তব শুল্ক পরিস্থিতিতে কোনো পরিবর্তন আসছে না। কারণ সেকশন ১২২-এর অধীন ১০ শতাংশ অস্থায়ী শুল্কের পরিবর্তে এখন সেকশন ৩০১-এর অধীন একই হারের শুল্ক কার্যকর হয়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সেকশন ১২২-এর শুল্কটি ছিল ব্যালান্স অব পেমেন্টসের তারতম্যের কারণে নেওয়া সাময়িক ব্যবস্থা। ওই আইনের অধীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট সর্বোচ্চ ১৫০ দিনের জন্য শুল্ক আরোপ করতে পারেন।

তিনি বলেন, “ওই মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আগের শুল্ক আর কার্যকর থাকবে না। তার পরিবর্তে নতুন ১০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হয়েছে। বাস্তবে শুল্কের পরিমাণ একই থাকছে; শুধু আইনি কাঠামো পরিবর্তিত হয়েছে। ফলে বাংলাদেশের বর্তমান শুল্ক পরিস্থিতিতে কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না।”

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ৮৬টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ সেই ১৭টি দেশের একটি, যাদের পণ্যের ওপর সর্বনিম্ন ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে।

চীন, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডের মতো বাংলাদেশের প্রধান প্রতিযোগী দেশের ওপর ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করায় মার্কিন বাজারে বাংলাদেশের তুলনামূলক অবস্থান কিছুটা শক্তিশালী হতে পারে বলে মনে করছে সরকার।

কোন দেশে কত শুল্ক

ফেডারেল রেজিস্টারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশ, ভারত, যুক্তরাজ্য, কম্বোডিয়া, কানাডা, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, মেক্সিকো, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কাসহ ১৭টি দেশের পণ্যে ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।

অন্যদিকে চীন, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডসহ অধিকাংশ বাণিজ্য অংশীদারের জন্য শুল্কহার নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান ও সুইজারল্যান্ডের ক্ষেত্রে বিদ্যমান মোস্ট ফেভার্ড নেশন—এমএফএন শুল্কের সঙ্গে সমন্বয় করে মোট শুল্কহার ১০ অথবা ১২ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারিত হয়েছে।

রপ্তানিকারকদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি—বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, নতুন ঘোষণার পর বাংলাদেশের জন্য কার্যকর অতিরিক্ত শুল্কে কোনো পরিবর্তন হয়নি।

তিনি বলেন, “এতদিন সেকশন ১২২-এর আওতায় ১০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর ছিল। সেই ব্যবস্থার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সেকশন ৩০১-এর আওতায় নতুন ১০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হয়েছে। অর্থাৎ আগের ১০ শতাংশের জায়গায় নতুন ১০ শতাংশ এসেছে।”

প্রতিযোগী দেশগুলোর বিষয়ে তিনি বলেন, ভিয়েতনামের শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে বেড়ে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ হয়েছে। ফলে ভিয়েতনামের তুলনায় বাংলাদেশ কিছুটা সুবিধা পেতে পারে। তবে ভারত ও কম্বোডিয়ার মতো দেশের ওপরও বাংলাদেশের সমান ১০ শতাংশ শুল্ক থাকায় তাদের তুলনায় বাড়তি সুবিধা তৈরি হয়নি।

বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি ও প্লামি ফ্যাশনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলুল হক বলেন, প্রতিযোগিতার দিক থেকে বাংলাদেশের বড় ক্ষতি না হলেও বিশেষ বাণিজ্য চুক্তির পরও অতিরিক্ত সুবিধা না পাওয়া হতাশাজনক।

তার ভাষায়, “প্রায় সব দেশের ক্ষেত্রেই শুল্ক বেড়েছে। তাই প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি। তবে এআরটি স্বাক্ষরের পরও বাংলাদেশ যদি আলাদা কোনো সুবিধা না পায়, সেটিই হতাশার বিষয়।”

হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে আজাদ বলেন, নতুন শুল্কের প্রকৃত প্রভাব বুঝতে আরও সময় প্রয়োজন। মার্কিন ক্রেতাদের সঙ্গে আলোচনা এবং অর্ডারের দামের ওপর এর প্রভাব পর্যালোচনা করার পরই স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।

ইউএস-বাংলাদেশ চেম্বারের প্রতিক্রিয়া

ইউএস-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট মো. লিটন আহমেদ বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কব্যবস্থায় বাংলাদেশের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক ১০ শতাংশে সীমিত থাকায় চীন, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডের তুলনায় কিছুটা প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা তৈরি হতে পারে। তবে নিয়মিত শুল্কসহ বাংলাদেশি পণ্যের মোট কার্যকর শুল্ক প্রায় ২৫ শতাংশ হওয়ায় রপ্তানিকারকদের ব্যয় ও মার্কিন বাজারে পণ্যের মূল্য বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক শ্রমমান, সরবরাহ শৃঙ্খলের স্বচ্ছতা এবং কাঁচামালের উৎস যাচাইয়ের ক্ষেত্রে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নিলে যুক্তরাষ্ট্রের আস্থা বাড়বে। একই সঙ্গে দুই দেশের সরকারের মধ্যে নিয়মিত বাণিজ্য সংলাপ জোরদার করে ট্যারিফ-রেট কোটা দ্রুত কার্যকর এবং বাংলাদেশি পণ্যের জন্য দীর্ঘমেয়াদি অগ্রাধিকারমূলক সুবিধা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।”

মো. লিটন আহমেদ বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি বাজার এবং দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। শুল্কসংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার, ব্যবসায়ী সংগঠন ও রপ্তানিকারকদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। ইউএস-বাংলাদেশ চেম্বার দুই দেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে সংযোগ, বিনিয়োগ এবং বাণিজ্য সহযোগিতা বাড়াতে কাজ অব্যাহত রাখবে।”

‘প্রতিযোগিতা নয়, প্রশ্ন ন্যায্যতার’

কয়েকজন রপ্তানিকারক বলছেন, বাংলাদেশকে অন্য দেশের সমান শুল্কস্তরে রাখার সিদ্ধান্তে ন্যায্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিশেষ বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর, বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার উদ্যোগ এবং এলএনজি সহযোগিতাসহ দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার হওয়ার পর বাংলাদেশ কিছুটা অগ্রাধিকার আশা করেছিল।

জোরপূর্বক শ্রমের সংজ্ঞা এবং কোন ভিত্তিতে একটি সম্পূর্ণ দেশ বা শিল্প খাতকে চিহ্নিত করা হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ব্যবসায়ীরা। কোনো পণ্যের কাঁচামাল সরবরাহ ব্যবস্থার একটি অংশে জোরপূর্বক শ্রমের সংশ্লিষ্টতা থাকলে তার দায় পুরো দেশের রপ্তানি খাতের ওপর চাপানো কতটা যৌক্তিক—এ বিষয়ে আরও স্পষ্টতা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।

ট্যারিফ-রেট কোটায় নতুন সম্ভাবনা

ইউএসটিআর বাংলাদেশ, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার জন্য তিন বছর মেয়াদি একটি Tariff-Rate Quota—TRQ চালুর বিষয় বিবেচনা করছে।

প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের তুলা ও টেক্সটাইল উপকরণ ব্যবহার করে উৎপাদিত নির্দিষ্ট পরিমাণ পোশাকপণ্য সেকশন ৩০১-এর অতিরিক্ত শুল্ক ছাড়াই মার্কিন বাজারে প্রবেশের সুযোগ পেতে পারে।

সরকার মনে করছে, টিআরকিউ ব্যবস্থা কার্যকর হলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের জন্য নতুন প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা সৃষ্টি হবে। তবে কোটার পরিমাণ, যোগ্য পণ্যের তালিকা এবং বাস্তবায়নপদ্ধতি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

দীর্ঘমেয়াদে চাহিদা কমার আশঙ্কা

পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী ড. এম মাসরুর রিয়াজ বলেন, জোরপূর্বক শ্রমের অভিযোগে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের ওপর ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত অপ্রত্যাশিত।

তার মতে, ইউএসটিআরের প্রাথমিক মূল্যায়নে বাংলাদেশের প্রয়োজনীয় আইনি কাঠামো থাকার কথা স্বীকার করা হলেও বাস্তবায়নে দুর্বলতার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছিল। এ ধরনের দুর্বলতা দূর করা সম্ভব হলেও বিষয়টি যথেষ্ট কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা হয়নি।

তিনি সতর্ক করে বলেন, উচ্চ শুল্ক দীর্ঘমেয়াদে মার্কিন বাজারে পণ্যের মূল্য বাড়াবে। এর ফলে ভোক্তার ব্যয় বৃদ্ধি এবং চাহিদা কমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের অন্যতম বড় রপ্তানি বাজার

যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ রপ্তানি গন্তব্য। ইউএস সেনসাস ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত পাঁচ মাসে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ৩৮৬ কোটি ৭৯ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশ আমদানি করেছে ৭৭ কোটি ৯০ লাখ ডলারের পণ্য।

বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, তাৎক্ষণিকভাবে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে বড় ধরনের পরিবর্তন না এলেও দীর্ঘমেয়াদি পরিস্থিতি নির্ভর করবে শ্রমমান বাস্তবায়ন, সরবরাহ শৃঙ্খলের স্বচ্ছতা, কাঁচামালের উৎস যাচাই এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কার্যকর বাণিজ্য আলোচনার ওপর।

একই সঙ্গে প্রস্তাবিত ট্যারিফ-রেট কোটা বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। তবে মোট শুল্কহার দীর্ঘদিন প্রায় ২৫ শতাংশের ওপরে থাকলে মার্কিন বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ও পণ্যের চাহিদার ওপর চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রে সর্বনিম্ন ১০ শতাংশ শুল্কস্তরে বাংলাদেশ

0

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন বাণিজ্যিক শুল্কব্যবস্থায় বাংলাদেশকে সর্বনিম্ন ১০ শতাংশ শুল্কস্তরে রাখা হয়েছে। চীন, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডসহ কয়েকটি প্রধান প্রতিযোগী দেশের জন্য ১২ দশমিক ৫ শতাংশ হার নির্ধারণ করায় মার্কিন বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও অন্যান্য রপ্তানি পণ্য তুলনামূলক সুবিধা পেতে পারে।

মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর—ইউএসটিআরের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশসহ ১৭টি অর্থনীতির পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ সেকশন ৩০১ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এই তালিকায় ভারত, পাকিস্তান, যুক্তরাজ্য, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়াও রয়েছে। অন্যান্য অনেক অর্থনীতির জন্য শুল্কহার নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ।

নতুন শুল্কহার শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬ যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময় রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে কার্যকর হয়েছে। ইউএসটিআর জানিয়েছে, জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য আমদানি ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আইন ও কার্যকর ব্যবস্থা পর্যাপ্ত নয়—এমন তদন্তের ভিত্তিতে ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের সেকশন ৩০১-এর আওতায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

তবে ১০ শতাংশ হারকে পুরোপুরি ‘শুল্কছাড়’ বলা যাবে না। এটি বাংলাদেশের পণ্যের ওপর আরোপিত নতুন সেকশন ৩০১ শুল্ক, যা পণ্যভেদে বিদ্যমান মোস্ট ফেভার্ড নেশন—এমএফএন শুল্কের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। বাংলাদেশের সুবিধাটি মূলত প্রতিযোগী কয়েকটি দেশের তুলনায় কম অতিরিক্ত শুল্কহার পাওয়ার কারণে।

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের জন্য আরও একটি বিশেষ সুযোগ রাখা হয়েছে। ইউএসটিআর বাংলাদেশ, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার জন্য প্রাথমিকভাবে তিন বছর মেয়াদি ট্যারিফ-রেট কোটা—টিআরকিউ চালুর পরিকল্পনা করেছে। এর আওতায় মার্কিন তুলা ও টেক্সটাইল উপকরণ ব্যবহার করে তৈরি নির্দিষ্ট পরিমাণ পোশাক সেকশন ৩০১-এর অতিরিক্ত শুল্ক ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবে।

তবে টিআরকিউ ব্যবস্থা এখনো কার্যকর হয়নি। এটি বাস্তবায়নের বিস্তারিত পদ্ধতি, পণ্যের তালিকা, কোটার পরিমাণ এবং কার্যকর হওয়ার তারিখ পরবর্তী সময়ে ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশ করবে ইউএসটিআর। ব্যবস্থা চালুর আগ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশি টেক্সটাইল ও পোশাকপণ্যের ওপর ১০ শতাংশ সেকশন ৩০১ শুল্ক প্রযোজ্য থাকবে।

সরকার আশা করছে, তুলনামূলক কম শুল্কহার এবং ভবিষ্যৎ টিআরকিউ সুবিধা কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রতিযোগিতা শক্তিশালী হবে। বিশেষ করে মার্কিন তুলা ও কাঁচামাল ব্যবহারকারী পোশাক রপ্তানিকারকেরা বাড়তি সুবিধা পেতে পারেন। তবে ব্যবসায়ীদের মতে, প্রকৃত সুবিধা নির্ভর করবে মোট কার্যকর শুল্ক, কোটার পরিমাণ, কাঁচামালের ব্যয় এবং বাস্তবায়নবিধির ওপর।

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে কাতারের আমিরকে প্রধানমন্ত্রীর চিঠি

0

বাংলাদেশে কাতারি বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে কাতারের আমিরের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উপসাগরীয় দেশটির সঙ্গে অর্থনৈতিক ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ হিসেবে এ চিঠি পাঠানো হয়েছে।

শুক্রবার, ২৪ জুলাই ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় কাতারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সুলতান বিন সাদ আল-মুরাইখির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। বৈঠকের সময় তিনি কাতারের আমিরের উদ্দেশে লেখা প্রধানমন্ত্রীর চিঠিটি হস্তান্তর করেন।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা চুক্তির—Treaty of Amity and Cooperation (TAC)—৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানের ফাঁকে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশ ও কাতারের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা।

বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণসহ দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় হয়। কাতারের সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশে নতুন সুযোগ সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব জোরদার করাই চিঠিটির মূল লক্ষ্য বলে প্রকাশিত তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে প্রধানমন্ত্রীর চিঠিতে কোন কোন খাতে বিনিয়োগের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে কিংবা সম্ভাব্য বিনিয়োগের পরিমাণ কত—প্রকাশিত সরকারি বিবরণে সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ম্যানিলায় টিএসির বার্ষিকী অনুষ্ঠান ঘিরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর চলমান কূটনৈতিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবেই কাতারের প্রতিনিধির সঙ্গে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

ছবি: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন: স্পিকার

0

শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬ বিকেলে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে তিনি স্বাক্ষরিত পদত্যাগপত্র পাঠান। পরে সংবাদ সম্মেলনে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন স্পিকার।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা থাকলেও তিনি সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যগত কারণেই পদত্যাগ করেছেন। তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতির সুস্বাস্থ্য ও মঙ্গল কামনা করেন।

পদত্যাগপত্রে মো. সাহাবুদ্দিন তাঁর শারীরিক ও মানসিক অসামর্থ্যের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত জটিলতায় ভুগছেন। সম্প্রতি তাঁর শরীরে ‘অটোনমিক নিউরোপ্যাথি’ শনাক্ত হয়েছে, যার কারণে তিনি মাঝেমধ্যে অল্প সময়ের জন্য অচেতন হয়ে পড়েন।

মো. সাহাবুদ্দিন তাঁর পদত্যাগপত্রে দাবি করেন, দায়িত্ব পালনকালে তাঁর দৃঢ় ও ইতিবাচক ভূমিকার কারণে দেশে কোনো সাংবিধানিক বিপর্যয় ঘটেনি। বর্তমান শারীরিক অবস্থায় রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা সম্ভব নয় বলে তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

স্পিকার জানান, বাংলাদেশের সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুসারে রাষ্ট্রপতি স্পিকারের উদ্দেশে লিখিত ও স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে পদত্যাগ করতে পারেন। পদত্যাগপত্র গ্রহণের পর সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।

নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে।

মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। নির্ধারিত পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই প্রায় তিন বছর তিন মাস দায়িত্ব পালনের পর তিনি পদত্যাগ করলেন।

ছবি: সংগৃহীত

থাইল্যান্ডে ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মীর কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা

0

প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া ও পারস্পরিক সমঝোতা সম্পন্ন হলে থাইল্যান্ডে প্রায় ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডের উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এ সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

শুক্রবার, ২৪ জুলাই ব্যাংককে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপমন্ত্রী ভিজাভাত ইসারাভাকদির মধ্যে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। ফিলিপাইনের ম্যানিলায় সরকারি সফর শেষে ব্যাংককে যাত্রাবিরতির সময় হুমায়ুন কবির এ বৈঠকে অংশ নেন।

বৈঠকে দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়। একই সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, শ্রমিক চলাচল, পর্যটন এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির বিভিন্ন উপায় নিয়ে আলোচনা করেন উভয় পক্ষ।

আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পায় বাংলাদেশ থেকে থাইল্যান্ডে শ্রমিক নিয়োগের বিষয়টি। প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর দেশটিতে সর্বোচ্চ ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মীর কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় করা হয়। তবে প্রকাশিত বিবৃতিতে কর্মীদের কাজের খাত, বেতন, নিয়োগের সময়সূচি কিংবা আবেদনপদ্ধতির বিস্তারিত জানানো হয়নি।

পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা বাংলাদেশকে আসিয়ানের ‘সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে থাইল্যান্ডের অব্যাহত সমর্থন কামনা করেন। থাই উপমন্ত্রী এ বিষয়ে তার দেশের গঠনমূলক সম্পৃক্ততা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণও জানানো হয়। কর্মী নিয়োগের প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বাংলাদেশের শ্রমবাজার সম্প্রসারণের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।

ছবি: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

সৌদির সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তির পরদিনই ট্রাম্পের নতুন শর্ত

0

সৌদি আরবের সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি ঘোষণার মাত্র একদিন পর নতুন শর্ত আরোপ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করে সৌদি আরব ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে’ যোগ দিলেই কেবল চুক্তিটি কার্যকর হবে।

ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, প্রস্তাবিত পারমাণবিক কর্মসূচিটি শুধু শান্তিপূর্ণ ও বেসামরিক কাজে ব্যবহারের জন্য। এতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির উপযোগী উপাদান সমৃদ্ধকরণের সুযোগ থাকবে না বলেও দাবি করেন তিনি।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট এবং সৌদি জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুল আজিজ বিন সালমান সৌদি আরবে বাণিজ্যিক পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে সহযোগিতার একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। প্রস্তাবিত চুক্তিটি কার্যকর হওয়ার আগে মার্কিন কংগ্রেসের পর্যালোচনা ও অনুমোদনের প্রয়োজন হবে।

তবে প্রাথমিক চুক্তি ঘোষণার সময় সৌদি আরবের আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দেওয়ার শর্তটির কথা উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ট্রাম্পের নতুন ঘোষণার পর চুক্তিটির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। সৌদি সরকারের পক্ষ থেকেও নতুন শর্তের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের মাধ্যমে কয়েকটি আরব দেশ ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, মরক্কো ও সুদান ইতোমধ্যে এ উদ্যোগে যুক্ত হয়েছে।

সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য গ্রহণযোগ্য ও সুস্পষ্ট পথনকশা ছাড়া ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করবে না। ট্রাম্পের নতুন শর্তের কারণে পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি এবং সৌদি–ইসরায়েল সম্পর্ক—দুটি বিষয়ই এখন নতুন কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের উত্থাপিত ‘শান্তি ও সহাবস্থানের সংস্কৃতি’ বিষয়ক প্রস্তাব গ্রহণ করল জাতিসংঘ...

0
সংলাপ, সহনশীলতা, সংহতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের প্রতি বৈশ্বিক অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে বাংলাদেশের উত্থাপিত ‘শান্তি ও সহাবস্থানের সংস্কৃতি (Culture of Peace) বিষয়ক ঘোষণা ও কর্মসূচির...

সর্বশেষ নিউজ

বাংলাদেশের উত্থাপিত ‘শান্তি ও সহাবস্থানের সংস্কৃতি’ বিষয়ক প্রস্তাব গ্রহণ করল জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ

0
সংলাপ, সহনশীলতা, সংহতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের প্রতি বৈশ্বিক অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে বাংলাদেশের উত্থাপিত ‘শান্তি ও সহাবস্থানের সংস্কৃতি (Culture of Peace) বিষয়ক ঘোষণা ও কর্মসূচির...

বাংলাদেশ–মালদ্বীপ সম্পর্ক জোরদারে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সরকারি সফর

0
বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা এবং সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র অনুসন্ধানের লক্ষ্যে মালদ্বীপ সফর করছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। মালদ্বীপের ৬১তম...

জনগণের ভোগান্তি কমাতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে: বাণিজ্যমন্ত্রী

0
বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। উন্নয়ন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন, যানজট...

সেমিকন্ডাক্টর শিল্পই হতে পারে বাংলাদেশের নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনাময় খাত: প্রধানমন্ত্রী

0
তৈরি পোশাকশিল্পের পর সেমিকন্ডাক্টর খাত বাংলাদেশের অর্থনীতির নতুন সম্ভাবনাময় চালিকাশক্তি হয়ে উঠতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে...

জোরপূর্বক শ্রম ইস্যুতে নতুন মার্কিন শুল্ক, বাংলাদেশি পণ্যে মোট কার্যকর হার অন্তত ২৫ শতাংশ

0
জোরপূর্বক শ্রম প্রতিরোধে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর নতুন করে ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক কার্যকর করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ১৯৭৪ সালের...